বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রতিদিনই জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। দেশের যে কোনো প্রান্তে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ফায়ার স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, অকার্যকর নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং মানহীন পিপি (পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) ব্যবহার করার কারণে কর্মীদের মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে।
গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক সাহারা মার্কেটে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড তার প্রমাণ। আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হয়ে ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও কয়েকজন কর্মী মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাই নয়, পরিসংখ্যান বলছে গত ১১ বছরে (২০১৫–২০২৫) অগ্নিকাণ্ডে ও বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী, যার মধ্যে ১৪ জন সরাসরি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৮৬ জন।
সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে। সেখানে রাসায়নিক বিস্ফোরণে একসঙ্গে ১৩ জন ফায়ার ফাইটার নিহত হন। এ ধরনের বিপর্যয় বারবার ঘটছে মূলত প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে।
বর্তমানে দেশে ৫৩৭টি ফায়ার স্টেশনে ১৪ হাজার ৫৭০ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গুদামের আগুন নেভানোর জন্য যেসব অটোমেটিক ফায়ার ফাইটিং রোবট, গ্যাস ডিটেক্টর ও কেমিক্যাল ডিটেক্টর থাকা প্রয়োজন, তার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। উন্নত দেশে যেখানে প্রতিটি অগ্নিকাণ্ড স্থলে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক, বাংলাদেশে মাত্র ১৫–২০টি স্টেশনে সীমিত সরঞ্জাম আছে।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সরবরাহকৃত পিপি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব পিপি ৩০০–৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ সহ্য করতে সক্ষম হওয়ার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক গাজীপুরের অগ্নিকাণ্ডে দেখা গেছে, সরঞ্জামগুলো সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এর মানে হচ্ছে পিপির মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঘাটতি আছে।
ফায়ার সার্ভিস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেমিক্যাল গুদামের আগুন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এসব কেমিক্যাল ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হয় না, ফলে সামান্য ভুলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ ফায়ার কর্মীদের কাছে পর্যাপ্ত আধুনিক প্রযুক্তি ও সুরক্ষা না থাকায় তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে জনগণকে রক্ষা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে মানসম্মত পিপি সরবরাহ, পর্যাপ্ত রোবট, ডিটেক্টর ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম বাড়ানো না হলে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রতিদিনই জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। দেশের যে কোনো প্রান্তে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ফায়ার স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, অকার্যকর নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং মানহীন পিপি (পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) ব্যবহার করার কারণে কর্মীদের মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে।
গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক সাহারা মার্কেটে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড তার প্রমাণ। আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হয়ে ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও কয়েকজন কর্মী মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাই নয়, পরিসংখ্যান বলছে গত ১১ বছরে (২০১৫–২০২৫) অগ্নিকাণ্ডে ও বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী, যার মধ্যে ১৪ জন সরাসরি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৮৬ জন।
সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে। সেখানে রাসায়নিক বিস্ফোরণে একসঙ্গে ১৩ জন ফায়ার ফাইটার নিহত হন। এ ধরনের বিপর্যয় বারবার ঘটছে মূলত প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে।
বর্তমানে দেশে ৫৩৭টি ফায়ার স্টেশনে ১৪ হাজার ৫৭০ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গুদামের আগুন নেভানোর জন্য যেসব অটোমেটিক ফায়ার ফাইটিং রোবট, গ্যাস ডিটেক্টর ও কেমিক্যাল ডিটেক্টর থাকা প্রয়োজন, তার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। উন্নত দেশে যেখানে প্রতিটি অগ্নিকাণ্ড স্থলে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক, বাংলাদেশে মাত্র ১৫–২০টি স্টেশনে সীমিত সরঞ্জাম আছে।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সরবরাহকৃত পিপি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব পিপি ৩০০–৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ সহ্য করতে সক্ষম হওয়ার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক গাজীপুরের অগ্নিকাণ্ডে দেখা গেছে, সরঞ্জামগুলো সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এর মানে হচ্ছে পিপির মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঘাটতি আছে।
ফায়ার সার্ভিস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেমিক্যাল গুদামের আগুন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এসব কেমিক্যাল ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হয় না, ফলে সামান্য ভুলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ ফায়ার কর্মীদের কাছে পর্যাপ্ত আধুনিক প্রযুক্তি ও সুরক্ষা না থাকায় তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে জনগণকে রক্ষা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে মানসম্মত পিপি সরবরাহ, পর্যাপ্ত রোবট, ডিটেক্টর ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম বাড়ানো না হলে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন