দৈনিক প্রথম সংবাদ
আপডেট : শুক্রবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৫

ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মৃত্যুঝুঁকি|আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি ও নিরাপত্তা সংকট

ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মৃত্যুঝুঁকি|আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি ও নিরাপত্তা সংকট
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত

বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রতিদিনই জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। দেশের যে কোনো প্রান্তে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ফায়ার স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, অকার্যকর নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং মানহীন পিপি (পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) ব্যবহার করার কারণে কর্মীদের মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে।

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক সাহারা মার্কেটে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড তার প্রমাণ। আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হয়ে ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও কয়েকজন কর্মী মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাই নয়, পরিসংখ্যান বলছে গত ১১ বছরে (২০১৫–২০২৫) অগ্নিকাণ্ডে ও বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী, যার মধ্যে ১৪ জন সরাসরি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৮৬ জন।

সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে। সেখানে রাসায়নিক বিস্ফোরণে একসঙ্গে ১৩ জন ফায়ার ফাইটার নিহত হন। এ ধরনের বিপর্যয় বারবার ঘটছে মূলত প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে।

বর্তমানে দেশে ৫৩৭টি ফায়ার স্টেশনে ১৪ হাজার ৫৭০ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গুদামের আগুন নেভানোর জন্য যেসব অটোমেটিক ফায়ার ফাইটিং রোবট, গ্যাস ডিটেক্টর ও কেমিক্যাল ডিটেক্টর থাকা প্রয়োজন, তার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। উন্নত দেশে যেখানে প্রতিটি অগ্নিকাণ্ড স্থলে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক, বাংলাদেশে মাত্র ১৫–২০টি স্টেশনে সীমিত সরঞ্জাম আছে।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সরবরাহকৃত পিপি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব পিপি ৩০০–৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ সহ্য করতে সক্ষম হওয়ার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক গাজীপুরের অগ্নিকাণ্ডে দেখা গেছে, সরঞ্জামগুলো সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এর মানে হচ্ছে পিপির মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঘাটতি আছে।

ফায়ার সার্ভিস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেমিক্যাল গুদামের আগুন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এসব কেমিক্যাল ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হয় না, ফলে সামান্য ভুলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ ফায়ার কর্মীদের কাছে পর্যাপ্ত আধুনিক প্রযুক্তি ও সুরক্ষা না থাকায় তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে জনগণকে রক্ষা করছেন।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে মানসম্মত পিপি সরবরাহ, পর্যাপ্ত রোবট, ডিটেক্টর ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম বাড়ানো না হলে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিষয় : ফায়ার সার্ভিস মৃত্যুঝুঁকি ফায়ার ফাইটার নিহত

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক প্রথম সংবাদ

সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬


ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মৃত্যুঝুঁকি|আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি ও নিরাপত্তা সংকট

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রতিদিনই জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। দেশের যে কোনো প্রান্তে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ফায়ার স্টেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, অকার্যকর নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং মানহীন পিপি (পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) ব্যবহার করার কারণে কর্মীদের মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে।

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক সাহারা মার্কেটে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড তার প্রমাণ। আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হয়ে ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও কয়েকজন কর্মী মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাই নয়, পরিসংখ্যান বলছে গত ১১ বছরে (২০১৫–২০২৫) অগ্নিকাণ্ডে ও বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী, যার মধ্যে ১৪ জন সরাসরি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৮৬ জন।

সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে। সেখানে রাসায়নিক বিস্ফোরণে একসঙ্গে ১৩ জন ফায়ার ফাইটার নিহত হন। এ ধরনের বিপর্যয় বারবার ঘটছে মূলত প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে।

বর্তমানে দেশে ৫৩৭টি ফায়ার স্টেশনে ১৪ হাজার ৫৭০ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গুদামের আগুন নেভানোর জন্য যেসব অটোমেটিক ফায়ার ফাইটিং রোবট, গ্যাস ডিটেক্টর ও কেমিক্যাল ডিটেক্টর থাকা প্রয়োজন, তার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। উন্নত দেশে যেখানে প্রতিটি অগ্নিকাণ্ড স্থলে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক, বাংলাদেশে মাত্র ১৫–২০টি স্টেশনে সীমিত সরঞ্জাম আছে।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সরবরাহকৃত পিপি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব পিপি ৩০০–৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ সহ্য করতে সক্ষম হওয়ার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক গাজীপুরের অগ্নিকাণ্ডে দেখা গেছে, সরঞ্জামগুলো সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এর মানে হচ্ছে পিপির মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঘাটতি আছে।

ফায়ার সার্ভিস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেমিক্যাল গুদামের আগুন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এসব কেমিক্যাল ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হয় না, ফলে সামান্য ভুলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ ফায়ার কর্মীদের কাছে পর্যাপ্ত আধুনিক প্রযুক্তি ও সুরক্ষা না থাকায় তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে জনগণকে রক্ষা করছেন।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে মানসম্মত পিপি সরবরাহ, পর্যাপ্ত রোবট, ডিটেক্টর ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম বাড়ানো না হলে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


দৈনিক প্রথম সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈম মাহমুদ
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সংবাদ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

শিরোনাম

দৈনিক প্রথম সংবাদ স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় কমিটি ২০২৬ গঠিত দৈনিক প্রথম সংবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ দৈনিক প্রথম সংবাদ স্বপ্নের স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়া, সব খরচ দেবে মোনাশ দৈনিক প্রথম সংবাদ বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ Bangladesh Bank Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ রাণীশংকৈলে ষড়জ শিল্পী গোষ্ঠীর উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ দৈনিক প্রথম সংবাদ গাইবান্ধায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল দৈনিক প্রথম সংবাদ নীলফামারী সিভিল সার্জনের কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ CS Nilphamari Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ নতুন বছর ২০২৬: সুখী ও সুস্থ থাকতে ৮টি কার্যকর জীবনশৈলী পরিবর্তন দৈনিক প্রথম সংবাদ ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ FRC Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ ভারতে চীনা সন্দেহে ছাত্র হত্যা: উত্তরাখণ্ডে তীব্র ক্ষোভ