দৈনিক প্রথম সংবাদ
আপডেট : রোববার, ০৯ নভেম্বর ২০২৫

শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট বাতিলের ধাক্কা শাটডাউনে বিপর্যস্ত বিমান চলাচল

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট বাতিলের ধাক্কা শাটডাউনে বিপর্যস্ত বিমান চলাচল
ছবি; সংগ্রহিত

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের শাটডাউন এখন দেশটির আকাশপথে তীব্র প্রভাব ফেলেছে। গত শনিবার (স্থানীয় সময়) একদিনেই ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইটের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে। ফলে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, শুক্রবারও প্রায় ৭ হাজার ফ্লাইট দেরিতে ছেড়েছিল। শাটডাউনের কারণে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীরা (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার) বেতন ছাড়াই অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন, যা বিমান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।

ফেডারেল শাটডাউন: কারণ ও প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রে গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই শাটডাউন মূলত কংগ্রেসে বাজেট পাস নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের দ্বন্দ্বের ফল। সরকারি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সপ্তাহের শুরুতেই ঘোষণা দিয়েছিল, দেশের ৪০টি ব্যস্ত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। কারণ, শাটডাউনের ফলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীরা “বেতনবিহীন” অবস্থায় কাজ করছেন এবং অনেকে ক্লান্তির কারণে অসুস্থতা দেখিয়ে ছুটি নিচ্ছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলো

শনিবার সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে শার্লট/ডগলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এবং শিকাগো ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
এফএএর তথ্যমতে, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গড়ে তিন ঘণ্টা, হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা এবং লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টা ফ্লাইট বিলম্ব হয়েছে।
নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে শনিবার দুপুর নাগাদ অপেক্ষার লাইনে যাত্রীদের ভিড় দীর্ঘ হতে থাকে। কেউ কেউ টানা ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করেছেন।

এয়ারলাইন্সের আহ্বান ও সরকারের অবস্থান

শনিবার এক বিবৃতিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ দ্রুত শাটডাউন সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, "বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আমাদের কর্মী নয়, লাখো যাত্রীর নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।"
অন্যদিকে, পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, “আমরা ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে ব্যক্তিগত জেট কমিয়ে ছোট এয়ারফিল্ড ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি, যাতে কন্ট্রোলাররা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।”
তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি না উন্নত হলে আগামী সপ্তাহে ফ্লাইট চলাচল ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে।

থ্যাঙ্কসগিভিং ভ্রমণ মৌসুমে নতুন শঙ্কা

এদিকে, নভেম্বরে থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটি ঘনিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত এই সময়টি দেশটির সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুমগুলোর একটি।
এফএএ জানিয়েছে, আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে ফ্লাইট কমানোর হার ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ছাড়াও ব্যক্তিগত ও কার্গো উড়োজাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়বে।

অর্থনীতি ও যাত্রীদের ওপর প্রভাব

শাটডাউনের কারণে শুধু আকাশপথই নয়, পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ছে। ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি এজেন্সির (টিএসএ) প্রায় ৬৪ হাজার কর্মী বেতন ছাড়া কাজ করছেন। এতে নিরাপত্তা চেকিংয়ে সময় বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেক যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট মিস করছেন।
২০১৮ সালের শাটডাউনের সময়ও এমন ঘটনা ঘটেছিল, যখন প্রায় ১০ শতাংশ টিএসএ কর্মী বেতন না পেয়ে কাজে না গিয়ে ঘরে অবস্থান করেছিলেন। এবারও একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্ভাব্য সমাধান: আলোচনায় কংগ্রেস

সরকারি কার্যক্রম চালুর জন্য কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এখনো ঐকমত্য হয়নি। তবে দু’দলই সপ্তাহান্তে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে। সিনেটররা জানাচ্ছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে সমঝোতা না হলে বিমান চলাচল আরও সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা যদি আর এক সপ্তাহও চলতে থাকে, তবে এর আর্থিক ক্ষতি বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিমান চলাচল সংকট হিসেবে গণ্য হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের প্রভাবে বিমান চলাচল এখন চরম অচলাবস্থায়। যাত্রী, এয়ারলাইন্স ও নিয়ন্ত্রক সবাই এখন অপেক্ষা করছে একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য। সরকার যদি দ্রুত বাজেট ইস্যুতে একমতে না পৌঁছায়, তাহলে থ্যাঙ্কসগিভিং মৌসুমে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

বিষয় : বিশ্ব সংবাদ যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন বিমান ভ্রমণ মার্কিন সিনেটর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক প্রথম সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫


যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট বাতিলের ধাক্কা শাটডাউনে বিপর্যস্ত বিমান চলাচল

প্রকাশের তারিখ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের শাটডাউন এখন দেশটির আকাশপথে তীব্র প্রভাব ফেলেছে। গত শনিবার (স্থানীয় সময়) একদিনেই ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইটের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে। ফলে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, শুক্রবারও প্রায় ৭ হাজার ফ্লাইট দেরিতে ছেড়েছিল। শাটডাউনের কারণে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীরা (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার) বেতন ছাড়াই অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন, যা বিমান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।

ফেডারেল শাটডাউন: কারণ ও প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রে গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই শাটডাউন মূলত কংগ্রেসে বাজেট পাস নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের দ্বন্দ্বের ফল। সরকারি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সপ্তাহের শুরুতেই ঘোষণা দিয়েছিল, দেশের ৪০টি ব্যস্ত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। কারণ, শাটডাউনের ফলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীরা “বেতনবিহীন” অবস্থায় কাজ করছেন এবং অনেকে ক্লান্তির কারণে অসুস্থতা দেখিয়ে ছুটি নিচ্ছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলো

শনিবার সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে শার্লট/ডগলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এবং শিকাগো ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
এফএএর তথ্যমতে, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গড়ে তিন ঘণ্টা, হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা এবং লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টা ফ্লাইট বিলম্ব হয়েছে।
নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে শনিবার দুপুর নাগাদ অপেক্ষার লাইনে যাত্রীদের ভিড় দীর্ঘ হতে থাকে। কেউ কেউ টানা ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করেছেন।

এয়ারলাইন্সের আহ্বান ও সরকারের অবস্থান

শনিবার এক বিবৃতিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ দ্রুত শাটডাউন সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, "বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আমাদের কর্মী নয়, লাখো যাত্রীর নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।"
অন্যদিকে, পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, “আমরা ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে ব্যক্তিগত জেট কমিয়ে ছোট এয়ারফিল্ড ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি, যাতে কন্ট্রোলাররা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।”
তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি না উন্নত হলে আগামী সপ্তাহে ফ্লাইট চলাচল ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে।

থ্যাঙ্কসগিভিং ভ্রমণ মৌসুমে নতুন শঙ্কা

এদিকে, নভেম্বরে থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটি ঘনিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত এই সময়টি দেশটির সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুমগুলোর একটি।
এফএএ জানিয়েছে, আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে ফ্লাইট কমানোর হার ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ছাড়াও ব্যক্তিগত ও কার্গো উড়োজাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়বে।

অর্থনীতি ও যাত্রীদের ওপর প্রভাব

শাটডাউনের কারণে শুধু আকাশপথই নয়, পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ছে। ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি এজেন্সির (টিএসএ) প্রায় ৬৪ হাজার কর্মী বেতন ছাড়া কাজ করছেন। এতে নিরাপত্তা চেকিংয়ে সময় বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেক যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট মিস করছেন।
২০১৮ সালের শাটডাউনের সময়ও এমন ঘটনা ঘটেছিল, যখন প্রায় ১০ শতাংশ টিএসএ কর্মী বেতন না পেয়ে কাজে না গিয়ে ঘরে অবস্থান করেছিলেন। এবারও একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্ভাব্য সমাধান: আলোচনায় কংগ্রেস

সরকারি কার্যক্রম চালুর জন্য কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এখনো ঐকমত্য হয়নি। তবে দু’দলই সপ্তাহান্তে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে। সিনেটররা জানাচ্ছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে সমঝোতা না হলে বিমান চলাচল আরও সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা যদি আর এক সপ্তাহও চলতে থাকে, তবে এর আর্থিক ক্ষতি বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিমান চলাচল সংকট হিসেবে গণ্য হবে।”
[961]
যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের প্রভাবে বিমান চলাচল এখন চরম অচলাবস্থায়। যাত্রী, এয়ারলাইন্স ও নিয়ন্ত্রক সবাই এখন অপেক্ষা করছে একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য। সরকার যদি দ্রুত বাজেট ইস্যুতে একমতে না পৌঁছায়, তাহলে থ্যাঙ্কসগিভিং মৌসুমে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।


দৈনিক প্রথম সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈম মাহমুদ
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক প্রথম সংবাদ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

শিরোনাম