ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে শুক্রবার ভ্লাদিমির পুতিনকে ২১-তোপ স্যালুট দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, যা তার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সফরটি ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ভারতের প্রথম সফর, যা রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে প্রথমবার।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যময় করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তেল এবং প্রতিরক্ষা খাতের বাইরেও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে। মোদি এই সম্পর্ককে "একটি গাইডিং স্টার" হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, “উভয়ের পারস্পরিক সম্মান ও গভীর আস্থার ওপর ভিত্তি করে আমাদের সম্পর্ক সবসময় সময়ের পরীক্ষায় টিকে আছে।”ভ্লাদিমির পুতিন ভারতকে "অবিরাম জ্বালানি সরবরাহ" নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও রাশিয়ার দৃঢ় অবস্থান নির্দেশ করে। একই সঙ্গে রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কুদাংকুলামে নির্মাণের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে।দুই নেতা বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান জটিল ও অনিশ্চিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক বহিরাগত চাপের মুখে দৃঢ়। এছাড়া, যৌথ উদ্যোগে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও নৌ পরিবহন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতেও নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ভারতের আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যকে সমর্থন করবে।ভ্লাদিমির পুতিন এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের সমালোচনা করে বলেছেন, “যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পারমাণবিক জ্বালানি কিনতে পারে, তাহলে কেন ভারত একই সুবিধা পাবে না?” তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ভারত-রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে চলেছে, সামান্য হ্রাস সত্ত্বেও।এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ, ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারতের সঙ্গে সমঝোতা এবং শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে রাশিয়া তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে, এই সফর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বকে প্রতিফলিত করেছে যে, ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষা সহ্য করে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অটল।[532]