দৈনিক প্রথম সংবাদ
আপডেট : সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন

জুলাই সনদে অচলাবস্থা ঠেকাতে অন্তরালে সমঝোতার আভাস

জুলাই সনদে অচলাবস্থা ঠেকাতে অন্তরালে সমঝোতার আভাস
ছবি; সংগ্রহিত

বাংলাদেশের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে অন্তর্বর্তী সরকার নেপথ্যে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাত দিনের সময়সীমা প্রায় শেষের পথে, কিন্তু বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখনো কোনো যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

সময়সীমা শেষের পথে, আলোচনায় অনীহা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার দলগুলোকে আলোচনার জন্য যে সাত দিনের সময়সীমা দিয়েছিল, তা সোমবার শেষ হতে যাচ্ছে। তবে বিএনপি জানিয়েছে, তারা অন্য কোনো দলের সঙ্গে নয়, শুধু সরকার বা কমিশনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে রাজি।
সরকারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলো একমত না হলে সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণ করবে।

পারস্পরিক দোষারোপে রাজনৈতিক অচলাবস্থা

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী, উভয় দলই এই অচলাবস্থার জন্য সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, কমিশনের সুপারিশে এমন কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে যা সভায় আলোচনা হয়নি, আবার যেগুলোতে সব দল একমত ছিল, তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি মনে করে, এতে "বিশেষ একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা" করা হচ্ছে, আর জামায়াত বলছে, সংকটের দায় পুরোপুরি সরকারের।

প্রধান বিতর্ক: গণভোট কবে হবে?

সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে গণভোটের সময়সূচি নিয়ে।
  • বিএনপি বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হতে হবে।
  • জামায়াত বলছে, গণভোট নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।
এই মতবিরোধই মূলত পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।

কমিশনের প্রস্তাব ও দলগুলোর আপত্তি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকার একটি বিশেষ আদেশ জারি করে গণভোট আয়োজন করবে। প্রস্তাবগুলো গণভোটে পাস হলে নতুন সংসদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। আর সে সময়ের মধ্যে না হলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে, এই ধারাটিকেই বিএনপি তীব্রভাবে সমালোচনা করছে।

অন্তরালের উদ্যোগ: সমঝোতার চেষ্টা চলছে

রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সরকার নেপথ্যে প্রধান দুই দলকে এক টেবিলে আনতে চেষ্টা করছে। আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা তৈরি হলে, বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে এবং জামায়াতের প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদে সংখ্যানুপাতিক ভোট পদ্ধতি চালুর বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। যদিও কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে মন্তব্য করেনি।

দলগুলোর কর্মসূচি ও রাজনৈতিক তৎপরতা

বিএনপি ৭ নভেম্বরের সমাবেশ থেকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ আটটি দল ১১ নভেম্বর ঢাকায় বড় সমাবেশ ডেকেছে এবং দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চও পৃথকভাবে উভয় দলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে, যদিও এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি।

অচলাবস্থা নাকি কৌশলগত বিলম্ব?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ও কমিশনের পদক্ষেপ নির্বাচনকে বিলম্বিত করার একটি কৌশল হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে,
“দলগুলো যে বিষয়ে একমত হয়েছে, সেটুকু বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেওয়ার কারণেই সংকট তৈরি হয়েছে। তাই সমাধানের দায় সরকারের ওপরই বর্তায়।”
তিনি আরও মনে করেন, প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য যেভাবেই হোক, সরকারকেই আস্থার পরিবেশ তৈরি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। যদিও প্রকাশ্যে সবাই একে অপরকে দোষারোপ করছে, তবু নেপথ্যে সমঝোতার নরম সুর শোনা যাচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, এই আলোচনাগুলো সত্যিই অচলাবস্থা ভাঙতে পারে, নাকি আবারও দেশের রাজনীতি নতুন অচলায়তনের মুখে পড়বে।

বিষয় : জুলাই সনদ অন্তর্বর্তী সরকার গণভোট বাংলাদেশ নির্বাচন জামায়াতে ইসলামী

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক প্রথম সংবাদ

সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫


জুলাই সনদে অচলাবস্থা ঠেকাতে অন্তরালে সমঝোতার আভাস

প্রকাশের তারিখ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে অন্তর্বর্তী সরকার নেপথ্যে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাত দিনের সময়সীমা প্রায় শেষের পথে, কিন্তু বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখনো কোনো যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

সময়সীমা শেষের পথে, আলোচনায় অনীহা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার দলগুলোকে আলোচনার জন্য যে সাত দিনের সময়সীমা দিয়েছিল, তা সোমবার শেষ হতে যাচ্ছে। তবে বিএনপি জানিয়েছে, তারা অন্য কোনো দলের সঙ্গে নয়, শুধু সরকার বা কমিশনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে রাজি।
সরকারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলো একমত না হলে সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণ করবে।

পারস্পরিক দোষারোপে রাজনৈতিক অচলাবস্থা

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী, উভয় দলই এই অচলাবস্থার জন্য সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, কমিশনের সুপারিশে এমন কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে যা সভায় আলোচনা হয়নি, আবার যেগুলোতে সব দল একমত ছিল, তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি মনে করে, এতে "বিশেষ একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা" করা হচ্ছে, আর জামায়াত বলছে, সংকটের দায় পুরোপুরি সরকারের।

প্রধান বিতর্ক: গণভোট কবে হবে?

সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে গণভোটের সময়সূচি নিয়ে।
  • বিএনপি বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হতে হবে।
  • জামায়াত বলছে, গণভোট নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।
এই মতবিরোধই মূলত পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।

কমিশনের প্রস্তাব ও দলগুলোর আপত্তি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকার একটি বিশেষ আদেশ জারি করে গণভোট আয়োজন করবে। প্রস্তাবগুলো গণভোটে পাস হলে নতুন সংসদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। আর সে সময়ের মধ্যে না হলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে, এই ধারাটিকেই বিএনপি তীব্রভাবে সমালোচনা করছে।

অন্তরালের উদ্যোগ: সমঝোতার চেষ্টা চলছে

রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সরকার নেপথ্যে প্রধান দুই দলকে এক টেবিলে আনতে চেষ্টা করছে। আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা তৈরি হলে, বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে এবং জামায়াতের প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদে সংখ্যানুপাতিক ভোট পদ্ধতি চালুর বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। যদিও কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে মন্তব্য করেনি।

দলগুলোর কর্মসূচি ও রাজনৈতিক তৎপরতা

বিএনপি ৭ নভেম্বরের সমাবেশ থেকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ আটটি দল ১১ নভেম্বর ঢাকায় বড় সমাবেশ ডেকেছে এবং দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চও পৃথকভাবে উভয় দলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে, যদিও এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি।

অচলাবস্থা নাকি কৌশলগত বিলম্ব?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ও কমিশনের পদক্ষেপ নির্বাচনকে বিলম্বিত করার একটি কৌশল হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে,
“দলগুলো যে বিষয়ে একমত হয়েছে, সেটুকু বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেওয়ার কারণেই সংকট তৈরি হয়েছে। তাই সমাধানের দায় সরকারের ওপরই বর্তায়।”
তিনি আরও মনে করেন, প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য যেভাবেই হোক, সরকারকেই আস্থার পরিবেশ তৈরি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
[969]
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। যদিও প্রকাশ্যে সবাই একে অপরকে দোষারোপ করছে, তবু নেপথ্যে সমঝোতার নরম সুর শোনা যাচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, এই আলোচনাগুলো সত্যিই অচলাবস্থা ভাঙতে পারে, নাকি আবারও দেশের রাজনীতি নতুন অচলায়তনের মুখে পড়বে।


দৈনিক প্রথম সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈম মাহমুদ
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক প্রথম সংবাদ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

শিরোনাম

দৈনিক প্রথম সংবাদ নামাজের সময়সূচি ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দৈনিক প্রথম সংবাদ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ BSRI Job Circular 2025 দৈনিক প্রথম সংবাদ ইউরোপের ৪ দেশে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ দৈনিক প্রথম সংবাদ ১৪ বছর পর ভারতে ফিরছেন লিওনেল মেসি: শুরু হচ্ছে GOAT India Tour 2025 দৈনিক প্রথম সংবাদ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ দৈনিক প্রথম সংবাদ সুইডেনে বিনা মূল্যে মাস্টার্স বাংলাদেশিদের জন্য দারুণ সুযোগ দৈনিক প্রথম সংবাদ ডাফির পাঁচ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধস, নিউজিল্যান্ডের প্রথম জয় দৈনিক প্রথম সংবাদ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতায় দক্ষিণ আফ্রিকা দৈনিক প্রথম সংবাদ আর্সেনালের জয়: মাদেউকে ও মার্টিনেলির অসাধারণ পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৩-০ জয় দৈনিক প্রথম সংবাদ আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড নিয়োগ ২০২৫ ISTCL Job Circular 2025