বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর গণভোট আন্দোলন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতের এ ধরনের কর্মসূচি দেশের পতিত ফ্যাসিস্ট ও অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসাহিত করবে।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (IDEB) ভবনের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর উপলক্ষে।
জামায়াতে ইসলামী নেতাদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“আপনারা খেতে পারবেন না বলে অন্যের বাড়া ভাতে ছাই ছিটিয়ে দেবেন—এটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আপনারা ঋণ করে ঘি খেতে চান—খান, কিন্তু দেশের রাজপথকে অগণতান্ত্রিকভাবে উত্তপ্ত হতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা যা শুরু করেছেন, তাতে পতিত ফ্যাসিস্ট উৎসাহিত হবে, এবং এর ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।”
অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘রেফারি হয়ে গোল দেওয়া’র অভিযোগ তুলে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন,
“সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই—আপনারা কোনো নির্বাচিত সরকার নন। তাই আমাদের ডিকটেট করার এখতিয়ার আপনাদের নেই। সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমন ভাষা আপনাদের মানায় না। আপনাদের কাজ হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজন করা, সেটাই সীমারেখা।”
তিনি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন কোনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক শক্তিকে নির্দেশ দেওয়া গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
সালাহউদ্দিন আহমদ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি শেষবারের মতো আহ্বান জানাই—আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করুন। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, তারা আনুমানিক দুই মাস সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করবে। আমরা সেই অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত।”
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“গণভোট যদি করতেই হয়, তা অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের দিনেই হতে হবে। ফলাফল এক জায়গায় গিয়ে মিলবে, তাহলে আগে থেকে আলাদা আয়োজনের প্রয়োজন নেই। আমরা গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে গণভোট প্রস্তাব করেছিলাম, কোনো সংঘাত তৈরির জন্য নয়।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, তরিকুল ইসলাম তারিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনের নেতারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের গণভোট আন্দোলন ও বিএনপির গণতন্ত্র রক্ষার দাবির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও, উভয় দলের কর্মকাণ্ডে সরকারবিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
তবে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি জামায়াতের কোনো একতরফা আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে অনিচ্ছুক, বরং তারা নির্বাচনের সংবিধানসম্মত ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বজায় রাখতে আগ্রহী।
সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে যে, বিএনপি গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়, কিন্তু জামায়াতের গণভোটমুখী আন্দোলন সে প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।
তিনি সরকারকে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এখন গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর গণভোট আন্দোলন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতের এ ধরনের কর্মসূচি দেশের পতিত ফ্যাসিস্ট ও অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসাহিত করবে।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (IDEB) ভবনের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর উপলক্ষে।
জামায়াতে ইসলামী নেতাদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“আপনারা খেতে পারবেন না বলে অন্যের বাড়া ভাতে ছাই ছিটিয়ে দেবেন—এটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আপনারা ঋণ করে ঘি খেতে চান—খান, কিন্তু দেশের রাজপথকে অগণতান্ত্রিকভাবে উত্তপ্ত হতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা যা শুরু করেছেন, তাতে পতিত ফ্যাসিস্ট উৎসাহিত হবে, এবং এর ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।”
অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘রেফারি হয়ে গোল দেওয়া’র অভিযোগ তুলে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন,
“সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই—আপনারা কোনো নির্বাচিত সরকার নন। তাই আমাদের ডিকটেট করার এখতিয়ার আপনাদের নেই। সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমন ভাষা আপনাদের মানায় না। আপনাদের কাজ হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজন করা, সেটাই সীমারেখা।”
তিনি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন কোনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক শক্তিকে নির্দেশ দেওয়া গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
সালাহউদ্দিন আহমদ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি শেষবারের মতো আহ্বান জানাই—আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করুন। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, তারা আনুমানিক দুই মাস সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করবে। আমরা সেই অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত।”
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“গণভোট যদি করতেই হয়, তা অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের দিনেই হতে হবে। ফলাফল এক জায়গায় গিয়ে মিলবে, তাহলে আগে থেকে আলাদা আয়োজনের প্রয়োজন নেই। আমরা গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে গণভোট প্রস্তাব করেছিলাম, কোনো সংঘাত তৈরির জন্য নয়।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, তরিকুল ইসলাম তারিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনের নেতারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের গণভোট আন্দোলন ও বিএনপির গণতন্ত্র রক্ষার দাবির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও, উভয় দলের কর্মকাণ্ডে সরকারবিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
তবে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি জামায়াতের কোনো একতরফা আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে অনিচ্ছুক, বরং তারা নির্বাচনের সংবিধানসম্মত ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বজায় রাখতে আগ্রহী।
সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে যে, বিএনপি গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়, কিন্তু জামায়াতের গণভোটমুখী আন্দোলন সে প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।
তিনি সরকারকে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এখন গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

আপনার মতামত লিখুন