প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যমুনায় গেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশসহ পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে তারা।
প্রতিনিধি দল যমুনায় প্রবেশ
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্টন থেকে মিছিল নিয়ে মৎস্য ভবন মোড় পর্যন্ত আসে আট দলের নেতাকর্মীরা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নয় সদস্যের প্রতিনিধি দলটি স্মারকলিপি নিয়ে যমুনায় প্রবেশ করে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ফজলে বারী মাসউদসহ অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতা।
রাজধানীতে শাপলা চত্বরে সমাবেশ
এর আগে মতিঝিল শাপলা চত্বর ও কাকরাইল মোড়ে জড়ো হন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল এসে মিলিত হয় কেন্দ্রীয় সমাবেশে।
আয়োজকদের দাবি, তাদের কর্মসূচি ছিল “গণতান্ত্রিক দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ অবস্থান”।
জামায়াতের নতুন কৌশল: জোট নয়, আসন সমঝোতা
সমমনাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোট না করে আসনভিত্তিক সমঝোতায় যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এতে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে দলটির পদক্ষেপটি, এটি কি ‘গোপন কৌশল’?
বহু বিশ্লেষকের মতে, একাধিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনের “অংশগ্রহণমূলক” চিত্র দেখাতে এমন কৌশল নিয়েছে জামায়াত। কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি যেভাবে সমমনাদের জন্য নির্দিষ্ট আসন রেখেছে, জামায়াতও সেই পথেই হাঁটছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমরা এখন কাঠামোগত জোট নয়, বরং সমমনাদের সঙ্গে সমন্বয় করছি, যাতে এক আসনে একাধিক প্রার্থী না হয়।”
পটভূমি: বিএনপির সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে ছিল জামায়াতে ইসলামী। ক্ষমতায় আসার পর ওই জোট সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন জামায়াতের দুজন শীর্ষ নেতা।
তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জোট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের এই অবস্থান “নতুন প্রজন্মের ভোটারদের” দিকেও বার্তা পাঠাচ্ছে, তারা স্বাধীনভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন