আজকের আবহাওয়া থেকে শুরু করে আগামী ১৫ দিনের পূর্বাভাসসহ বাংলাদেশের সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের বিস্তারিত তথ্য। শীতের আগমণ, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার পরিবর্তন-সবএকসাথে। নভেম্বরের শুরুতেই দেশের আকাশে শীতের ছোঁয়া দেখা দিতে শুরু করেছে। সকালে হালকা কুয়াশা, দুপুরে নরম রোদ আর সন্ধ্যায় ঠান্ডা বাতাস - এভাবেই শীতের আগমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রকৃতি। আজকের দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া ভিন্ন ভিন্ন হলেও সামগ্রিকভাবে মৌসুমি পরিবর্তনের প্রবণতা স্পষ্ট। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহে দেশের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে এবং উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে আগে দেখা দেবে।
ঘন কুয়াশা, হালকা বাতাস, আর দুপুরের রোদ - এইসবই এখন আমাদের দেশের আকাশে দেখা যাচ্ছে। প্রতি দিন বাড়ছে ঋতুর পরিবর্তনের অনুভূতি। আবহাওয়া শুধু দিনের পরিকল্পনায় নয়, কৃষি, ব্যবসা, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে Bangladesh Meteorological Department (BMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিনে দেশের জলবায়ু পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে যা থেকে শীতের আগমন পরিষ্কার বোঝা যাবে।
আজকের বৃষ্টির খবর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমছে বর্ষণ, পরবর্তী ৫ দিন থেকেই নামবে রাতের তাপমাত্রা,এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি কমে আসবে। প্রথম ৪ দিনের পর দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।চট্টগ্রাম, সিলেট, ও বরিশাল বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই সময়ই বৃষ্টির মূল প্রভাব থাকবে।
এরপর উত্তর দিক থেকে শুকনো বাতাস আসতে শুরু করবে।এই শুকনো বাতাসের ফলে তাপমাত্রা কমবে এবং দেশজুড়ে একটি মনোরম ও আরামদায়ক আবহাওয়া তৈরি হবে। ৫ দিন পর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করবে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে শুষ্ক আবহাওয়ায় পরিবর্তিত হবে। রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে শুরু করবে।
আগামী ১৫ দিনের পূর্বাভাস (৩ নভেম্বর – ১৮ নভেম্বর ২০২৫)
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করবে। ফলে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই দেশে শীতের পূর্ণ আগমন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজকের বৃষ্টির খবর মূলত দেশের দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকে। যদিও বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টির খবর বাংলাদেশ থেকে নেই, তবুও কয়েকটি জায়গায় সতর্কতা প্রয়োজন।
আজকের আবহাওয়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর
আজ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় রোদ্রোজ্জ্বল আকাশ ও হালকা বাতাস দেখা যাচ্ছে। তবে রাত ও ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা এবং কোথাও কোথাও কুয়াশা থাকতে পারে। নিম্নে কয়েকটি শহরের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার আপডেট দেওয়া হলো (BMD তথ্যমতে)।

আজকের আবহাওয়া
এই তথ্য থেকে দেখা যায়: উত্তরাঞ্চলের এক-দুটি জেলায় রাতের তাপমাত্রা তুলনায় বেশ কম হয়েছে - যা শীতের আগমনের ইঙ্গিত। অন্যদিকে উপকূলীয় ও দক্ষিণ/মধ্যাঞ্চলে এখনও একটু উষ্ণতা অনুভূত হচ্ছে।
আজ সকাল থেকে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে।
ঢাকা ও আশেপাশের অঞ্চল: সকাল ও রাতের দিকে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, দিনে রোদ্রোজ্জ্বল ও শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে।
চট্টগ্রাম বিভাগ: উপকূলীয় এলাকায় সামান্য মেঘলা ও সাগর উপকূলে হালকা বাতাস বয়ে যেতে পারে।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ: শীতের পূর্বাভাস সবচেয়ে বেশি এই দুই অঞ্চলে। ভোরবেলায় কুয়াশা এবং রাতে তাপমাত্রা দ্রুত নিচে নামবে।
খুলনা ও বরিশাল বিভাগ: বাতাসে আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি, তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
সিলেট অঞ্চল: পাহাড়ি বাতাসের প্রভাবে হালকা শীতলতা অনুভূত হচ্ছে, আকাশ আংশিক মেঘলা।
আজ সারাদেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে যাবে - যা শীত আগমনের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী দুই সপ্তাহে দেশের আবহাওয়ার দিকে তাকালে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়:
প্রথম ৫ দিন: অস্থিরতার কিছু ছোঁয়া থাকতে পারে - আংশিক মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টি সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে।
মধ্যবর্তী ৫ দিন: উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক বাতাস প্রবেশ করবে। দিনের বেলায় রোদ থাকবে, কিন্তু রাতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে, রাতের বাতাসে ঠান্ডা অনুভূত হবে।
শেষ ৫ দিন: আবহাওয়া অনেকটা স্থিতিশীল হবে- রৌদ্রোজ্জ্বল দিন, হালকা বাতাস, রাতের তাপমাত্রা কম থাকবে যা শীতের আগমণকে উল্লেখযোগ্যভাবে চিহ্নিত করবে।
উল্লেখযোগ্য হলো রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে, বাতাস শুষ্ক হচ্ছে - এটি শীতের শুরু। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকায় গত কয়েক দিনের মতো ভারী বৃষ্টির (৬৩ মি.মি. বা তার বেশি) সম্ভাবনা কম। আজকের আবহাওয়া ঢাকা বৃষ্টির খবর অনুযায়ী, বড় কোনো বন্যার মতো বৃষ্টি এই মুহূর্তে নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মেঘলা আকাশ এবং খুবই হালকা বা সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর ঢাকার রাতের তাপমাত্রা কমতে থাকবে, যা রাজধানীবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক হবে এবং শীতের শুরুর অনুভূতি দেবে।
আজকের আবহাওয়া খবর সিলেট - এ গরম কিছুটা বেশি থাকলেও, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসবে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপের কারণে সিলেটে আগামী ১৫ দিনের আবহাওয়ার খবর খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ৪ থেকে ৫ দিন সিলেট অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে ছাতা নিতে ভুলবেন না।বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর সিলেটেই কুয়াশা জমতে পারে। এখানকার বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সকালে ঘন কুয়াশা দেখা যেতে পারে, যা যাতায়াতে সমস্যা করতে পারে।
আজকের আবহাওয়া খবর রাজশাহী এবং এর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী জেলাগুলোতে অন্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় রাতের তাপমাত্রা বেশ কম। এই অঞ্চলের আবহাওয়া প্রাক-শীতকালীন শুষ্ক মৌসুমের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.৮°C এর কাছাকাছি থাকায় রাজশাহী এবং তেঁতুলিয়ার মতো এলাকায় ভোরে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের পূর্বাভাসে রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক এবং রৌদ্রোজ্জ্বল থাকবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য (Diurnal Range) এখানে বেশি থাকবে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা আরামদায়ক থাকলেও, রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে।
বর্তমানে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব রয়েছে । যদিও গতকালের মতো সারাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই, তবে লঘুচাপের প্রভাবের কারণে:
চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের জেলেদের জন্য এই সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকে, তাই বাইরে কাজ করার সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।এই মুহূর্তে বড় ধরনের ঝড় বা ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই, তবে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
বাংলাদেশের ৭টি জলবায়ু অঞ্চলের আঞ্চলিক বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের আবহাওয়া মূলত সাতটি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত। প্রতিটি অঞ্চলের আলাদা আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শীতকালেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল (রাজশাহী, রংপুর): শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি এখানেই দেখা যায়। ডিসেম্বরের আগে থেকেই ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডা শুরু হয়। এখানে বৃষ্টিপাত কম, শুষ্কতা বেশি। দিনের বেলা তাপমাত্রা ৩০ °C-এরও বেশি থাকতে পারে, তবে রাতে দ্রুত ঠাণ্ডা পড়বে। শুষ্ক ও উষ্ণ দিন, শীতল রাত - এই ধরণের পরিবেশ হবে এই অঞ্চলে।
দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল (খুলনা, যশোর): শুষ্ক আবহাওয়া ও ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকে।এ অঞ্চলে সামুদ্রিক প্রভাব রয়েছে-আর্দ্রতা বেশি, বাতাস কখনও কখনও ঝোড়ো হতে পারে। আগামী সময়ে শীত আসলেও দিনের বেলা হালকা গরম বা নরম থাকবে। তবে রাত অনেকটা আগে ঠাণ্ডা হতে শুরু করবে।
দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,নোয়াখালী): উপকূলীয় এলাকায় বাতাসে আর্দ্রতা থাকে, ফলে শীতের প্রভাব তুলনামূলক কম। তবে এই এলাকায় মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।এই অঞ্চলে সমুদ্রপ্রভাব রয়েছে, দিন তুলনায় রাত একটু মৃদু থাকবে। উচ্চ আর্দ্রতা ও সামুদ্রিক বাতাসের কারণে শীতের প্রভাব ধীরে ধীরে আসবে। আগামী সময়ে রাতের তাপমাত্রা একটু কমবে, তবে দিনের বেলা তুলনায় উষ্ণতা কিছুটা থাকবে।
মধ্য অঞ্চল (ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর): এখানে শীতের প্রভাব মাঝারি ধরনের। সকালে কুয়াশা আর রাতে ঠান্ডা অনুভূত হয়, তবে দিনের বেলায় সূর্যের তাপ কিছুটা বাড়ে। এই অঞ্চলে আবহাওয়া দেশের গড়ের কাছাকাছি থাকবে। দিনে রোদ ও রাতের হালকা ঠাণ্ডা - এটাই এখানে আসন্ন সময়ের রূপ। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের তুলনায় এখানে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বেশি শীত অনুভূত হবে।
উত্তর-পূর্ব অঞ্চল (সিলেট,শ্রীমঙ্গল, নেত্রকোনা): পাহাড়ি অঞ্চলের প্রভাবে হালকা বৃষ্টি বা শিশির পড়তে পারে। তাপমাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে।এ অঞ্চল উচ্চ আর্দ্রতা ও ঘন কুয়াশার জন্য পরিচিত। শীতের আগমণ এখানে দ্রুত হতে পারে - রাতের দিকে শীত অনুভূত হবে, বিশেষ করে কৃষি অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায়।
দক্ষিণ মধ্যাঞ্চল (বরিশাল): এখানে আর্দ্রতা বেশি থাকলেও ডিসেম্বরের দিকে শীত ধীরে ধীরে প্রবেশ করে।এই অঞ্চলে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে না; বরং ধীরে ধীরে শীত নেমে আসে। দিনের বেলা এখনও রোদ্রের তেজ থাকে, কিন্তু রাত ও ভোরবেলায় ঠান্ডা অনুভূত হতে শুরু করে।
চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকা:এই অঞ্চলে দিন-রাতের তাপমাত্রা পার্থক্য তুলনামূলক বেশি। সকালবেলা কুয়াশা এবং রাতের দিকে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকে। সাধারণত সকালে এই অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও আর্দ্রতা লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টিতে। ভোরবেলায় পাহাড়ের গায়ে কুয়াশা জমে ঘন সাদা পর্দার মতো দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে সূর্যের আলোয় মিলিয়ে যায়। দিনের বেলা তাপমাত্রা ২৫–৩০ °C পর্যন্ত উঠলেও সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাপমাত্রা দ্রুত নেমে আসে, ফলে রাতের দিকে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এ বছর শীতের আগমন স্বাভাবিক সময়েই হবে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলে এবং তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলে শীত পুরোপুরি বিস্তার লাভ করবে এছাড়াও, বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় সকাল ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য আরও স্পষ্ট হবে বিশেষ করে, রংপুর, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা এবং হালকা কনকনে ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় শীতের মাত্রা হবে মাঝারি।
পরামর্শ ও সতর্কতা
আজকের আবহাওয়া খবর বাংলাদেশ প্রতিদিন আপনার দৈনন্দিন জীবনকে নিরাপদ ও পরিকল্পিত রাখতে সাহায্য করে। বৃষ্টি, ঝড়, এবং তাপমাত্রার ওঠানামা বুঝে নেওয়া মানে আপনার দিনটিকে সহজ ও সুরক্ষিতভাবে কাটানো। বাংলাদেশে নভেম্বর মানেই ঋতু পরিবর্তনের সময়। গরমের ক্লান্তি শেষে প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে, বাতাসে আসে শীতের স্নিগ্ধতা। আজকের আবহাওয়া এবং আগামী ১৫ দিনের পূর্বাভাস থেকে স্পষ্ট যে, এই বছরও শীত ধীরে ধীরে তবে সময়মতোই আমাদের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।
সর্বশেষ খবর, বিশ্লেষণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ এর নিউজ পোর্টালে।
বিষয় : আবহাওয়া আজকের আবহাওয়া ঝড়-বৃষ্টির খবর

শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫
আজকের আবহাওয়া থেকে শুরু করে আগামী ১৫ দিনের পূর্বাভাসসহ বাংলাদেশের সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের বিস্তারিত তথ্য। শীতের আগমণ, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার পরিবর্তন-সবএকসাথে। নভেম্বরের শুরুতেই দেশের আকাশে শীতের ছোঁয়া দেখা দিতে শুরু করেছে। সকালে হালকা কুয়াশা, দুপুরে নরম রোদ আর সন্ধ্যায় ঠান্ডা বাতাস - এভাবেই শীতের আগমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রকৃতি। আজকের দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া ভিন্ন ভিন্ন হলেও সামগ্রিকভাবে মৌসুমি পরিবর্তনের প্রবণতা স্পষ্ট। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহে দেশের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে এবং উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে আগে দেখা দেবে।
ঘন কুয়াশা, হালকা বাতাস, আর দুপুরের রোদ - এইসবই এখন আমাদের দেশের আকাশে দেখা যাচ্ছে। প্রতি দিন বাড়ছে ঋতুর পরিবর্তনের অনুভূতি। আবহাওয়া শুধু দিনের পরিকল্পনায় নয়, কৃষি, ব্যবসা, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে Bangladesh Meteorological Department (BMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিনে দেশের জলবায়ু পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে যা থেকে শীতের আগমন পরিষ্কার বোঝা যাবে।
আজকের বৃষ্টির খবর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমছে বর্ষণ, পরবর্তী ৫ দিন থেকেই নামবে রাতের তাপমাত্রা,এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি কমে আসবে। প্রথম ৪ দিনের পর দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।চট্টগ্রাম, সিলেট, ও বরিশাল বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই সময়ই বৃষ্টির মূল প্রভাব থাকবে।
এরপর উত্তর দিক থেকে শুকনো বাতাস আসতে শুরু করবে।এই শুকনো বাতাসের ফলে তাপমাত্রা কমবে এবং দেশজুড়ে একটি মনোরম ও আরামদায়ক আবহাওয়া তৈরি হবে। ৫ দিন পর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করবে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে শুষ্ক আবহাওয়ায় পরিবর্তিত হবে। রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে শুরু করবে।
আগামী ১৫ দিনের পূর্বাভাস (৩ নভেম্বর – ১৮ নভেম্বর ২০২৫)
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করবে। ফলে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই দেশে শীতের পূর্ণ আগমন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজকের বৃষ্টির খবর মূলত দেশের দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকে। যদিও বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টির খবর বাংলাদেশ থেকে নেই, তবুও কয়েকটি জায়গায় সতর্কতা প্রয়োজন।
আজকের আবহাওয়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর
আজ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় রোদ্রোজ্জ্বল আকাশ ও হালকা বাতাস দেখা যাচ্ছে। তবে রাত ও ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা এবং কোথাও কোথাও কুয়াশা থাকতে পারে। নিম্নে কয়েকটি শহরের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার আপডেট দেওয়া হলো (BMD তথ্যমতে)।

আজকের আবহাওয়া
এই তথ্য থেকে দেখা যায়: উত্তরাঞ্চলের এক-দুটি জেলায় রাতের তাপমাত্রা তুলনায় বেশ কম হয়েছে - যা শীতের আগমনের ইঙ্গিত। অন্যদিকে উপকূলীয় ও দক্ষিণ/মধ্যাঞ্চলে এখনও একটু উষ্ণতা অনুভূত হচ্ছে।
আজ সকাল থেকে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে।
ঢাকা ও আশেপাশের অঞ্চল: সকাল ও রাতের দিকে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, দিনে রোদ্রোজ্জ্বল ও শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে।
চট্টগ্রাম বিভাগ: উপকূলীয় এলাকায় সামান্য মেঘলা ও সাগর উপকূলে হালকা বাতাস বয়ে যেতে পারে।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ: শীতের পূর্বাভাস সবচেয়ে বেশি এই দুই অঞ্চলে। ভোরবেলায় কুয়াশা এবং রাতে তাপমাত্রা দ্রুত নিচে নামবে।
খুলনা ও বরিশাল বিভাগ: বাতাসে আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি, তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
সিলেট অঞ্চল: পাহাড়ি বাতাসের প্রভাবে হালকা শীতলতা অনুভূত হচ্ছে, আকাশ আংশিক মেঘলা।
আজ সারাদেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে যাবে - যা শীত আগমনের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী দুই সপ্তাহে দেশের আবহাওয়ার দিকে তাকালে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়:
প্রথম ৫ দিন: অস্থিরতার কিছু ছোঁয়া থাকতে পারে - আংশিক মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টি সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে।
মধ্যবর্তী ৫ দিন: উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক বাতাস প্রবেশ করবে। দিনের বেলায় রোদ থাকবে, কিন্তু রাতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে, রাতের বাতাসে ঠান্ডা অনুভূত হবে।
শেষ ৫ দিন: আবহাওয়া অনেকটা স্থিতিশীল হবে- রৌদ্রোজ্জ্বল দিন, হালকা বাতাস, রাতের তাপমাত্রা কম থাকবে যা শীতের আগমণকে উল্লেখযোগ্যভাবে চিহ্নিত করবে।
উল্লেখযোগ্য হলো রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে, বাতাস শুষ্ক হচ্ছে - এটি শীতের শুরু। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকায় গত কয়েক দিনের মতো ভারী বৃষ্টির (৬৩ মি.মি. বা তার বেশি) সম্ভাবনা কম। আজকের আবহাওয়া ঢাকা বৃষ্টির খবর অনুযায়ী, বড় কোনো বন্যার মতো বৃষ্টি এই মুহূর্তে নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মেঘলা আকাশ এবং খুবই হালকা বা সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর ঢাকার রাতের তাপমাত্রা কমতে থাকবে, যা রাজধানীবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক হবে এবং শীতের শুরুর অনুভূতি দেবে।
আজকের আবহাওয়া খবর সিলেট - এ গরম কিছুটা বেশি থাকলেও, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসবে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপের কারণে সিলেটে আগামী ১৫ দিনের আবহাওয়ার খবর খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ৪ থেকে ৫ দিন সিলেট অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে ছাতা নিতে ভুলবেন না।বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর সিলেটেই কুয়াশা জমতে পারে। এখানকার বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সকালে ঘন কুয়াশা দেখা যেতে পারে, যা যাতায়াতে সমস্যা করতে পারে।
আজকের আবহাওয়া খবর রাজশাহী এবং এর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী জেলাগুলোতে অন্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় রাতের তাপমাত্রা বেশ কম। এই অঞ্চলের আবহাওয়া প্রাক-শীতকালীন শুষ্ক মৌসুমের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.৮°C এর কাছাকাছি থাকায় রাজশাহী এবং তেঁতুলিয়ার মতো এলাকায় ভোরে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের পূর্বাভাসে রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক এবং রৌদ্রোজ্জ্বল থাকবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য (Diurnal Range) এখানে বেশি থাকবে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা আরামদায়ক থাকলেও, রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে।
বর্তমানে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব রয়েছে । যদিও গতকালের মতো সারাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই, তবে লঘুচাপের প্রভাবের কারণে:
চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের জেলেদের জন্য এই সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকে, তাই বাইরে কাজ করার সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।এই মুহূর্তে বড় ধরনের ঝড় বা ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই, তবে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
বাংলাদেশের ৭টি জলবায়ু অঞ্চলের আঞ্চলিক বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের আবহাওয়া মূলত সাতটি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত। প্রতিটি অঞ্চলের আলাদা আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শীতকালেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল (রাজশাহী, রংপুর): শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি এখানেই দেখা যায়। ডিসেম্বরের আগে থেকেই ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডা শুরু হয়। এখানে বৃষ্টিপাত কম, শুষ্কতা বেশি। দিনের বেলা তাপমাত্রা ৩০ °C-এরও বেশি থাকতে পারে, তবে রাতে দ্রুত ঠাণ্ডা পড়বে। শুষ্ক ও উষ্ণ দিন, শীতল রাত - এই ধরণের পরিবেশ হবে এই অঞ্চলে।
দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল (খুলনা, যশোর): শুষ্ক আবহাওয়া ও ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকে।এ অঞ্চলে সামুদ্রিক প্রভাব রয়েছে-আর্দ্রতা বেশি, বাতাস কখনও কখনও ঝোড়ো হতে পারে। আগামী সময়ে শীত আসলেও দিনের বেলা হালকা গরম বা নরম থাকবে। তবে রাত অনেকটা আগে ঠাণ্ডা হতে শুরু করবে।
দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,নোয়াখালী): উপকূলীয় এলাকায় বাতাসে আর্দ্রতা থাকে, ফলে শীতের প্রভাব তুলনামূলক কম। তবে এই এলাকায় মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।এই অঞ্চলে সমুদ্রপ্রভাব রয়েছে, দিন তুলনায় রাত একটু মৃদু থাকবে। উচ্চ আর্দ্রতা ও সামুদ্রিক বাতাসের কারণে শীতের প্রভাব ধীরে ধীরে আসবে। আগামী সময়ে রাতের তাপমাত্রা একটু কমবে, তবে দিনের বেলা তুলনায় উষ্ণতা কিছুটা থাকবে।
মধ্য অঞ্চল (ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর): এখানে শীতের প্রভাব মাঝারি ধরনের। সকালে কুয়াশা আর রাতে ঠান্ডা অনুভূত হয়, তবে দিনের বেলায় সূর্যের তাপ কিছুটা বাড়ে। এই অঞ্চলে আবহাওয়া দেশের গড়ের কাছাকাছি থাকবে। দিনে রোদ ও রাতের হালকা ঠাণ্ডা - এটাই এখানে আসন্ন সময়ের রূপ। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের তুলনায় এখানে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বেশি শীত অনুভূত হবে।
উত্তর-পূর্ব অঞ্চল (সিলেট,শ্রীমঙ্গল, নেত্রকোনা): পাহাড়ি অঞ্চলের প্রভাবে হালকা বৃষ্টি বা শিশির পড়তে পারে। তাপমাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে।এ অঞ্চল উচ্চ আর্দ্রতা ও ঘন কুয়াশার জন্য পরিচিত। শীতের আগমণ এখানে দ্রুত হতে পারে - রাতের দিকে শীত অনুভূত হবে, বিশেষ করে কৃষি অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায়।
দক্ষিণ মধ্যাঞ্চল (বরিশাল): এখানে আর্দ্রতা বেশি থাকলেও ডিসেম্বরের দিকে শীত ধীরে ধীরে প্রবেশ করে।এই অঞ্চলে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে না; বরং ধীরে ধীরে শীত নেমে আসে। দিনের বেলা এখনও রোদ্রের তেজ থাকে, কিন্তু রাত ও ভোরবেলায় ঠান্ডা অনুভূত হতে শুরু করে।
চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকা:এই অঞ্চলে দিন-রাতের তাপমাত্রা পার্থক্য তুলনামূলক বেশি। সকালবেলা কুয়াশা এবং রাতের দিকে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকে। সাধারণত সকালে এই অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও আর্দ্রতা লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টিতে। ভোরবেলায় পাহাড়ের গায়ে কুয়াশা জমে ঘন সাদা পর্দার মতো দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে সূর্যের আলোয় মিলিয়ে যায়। দিনের বেলা তাপমাত্রা ২৫–৩০ °C পর্যন্ত উঠলেও সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাপমাত্রা দ্রুত নেমে আসে, ফলে রাতের দিকে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এ বছর শীতের আগমন স্বাভাবিক সময়েই হবে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলে এবং তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলে শীত পুরোপুরি বিস্তার লাভ করবে এছাড়াও, বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় সকাল ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য আরও স্পষ্ট হবে বিশেষ করে, রংপুর, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা এবং হালকা কনকনে ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় শীতের মাত্রা হবে মাঝারি।
পরামর্শ ও সতর্কতা
আজকের আবহাওয়া খবর বাংলাদেশ প্রতিদিন আপনার দৈনন্দিন জীবনকে নিরাপদ ও পরিকল্পিত রাখতে সাহায্য করে। বৃষ্টি, ঝড়, এবং তাপমাত্রার ওঠানামা বুঝে নেওয়া মানে আপনার দিনটিকে সহজ ও সুরক্ষিতভাবে কাটানো। বাংলাদেশে নভেম্বর মানেই ঋতু পরিবর্তনের সময়। গরমের ক্লান্তি শেষে প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে, বাতাসে আসে শীতের স্নিগ্ধতা। আজকের আবহাওয়া এবং আগামী ১৫ দিনের পূর্বাভাস থেকে স্পষ্ট যে, এই বছরও শীত ধীরে ধীরে তবে সময়মতোই আমাদের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।
সর্বশেষ খবর, বিশ্লেষণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ এর নিউজ পোর্টালে।
[884]

আপনার মতামত লিখুন