নবম পে স্কেল ২০২৫ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন সিদ্ধান্ত
নবম পে স্কেল ২০২৫: সরকারি কর্মচারীদের জন্য কী সিদ্ধান্ত আসছেনবম পে স্কেল ২০২৫ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ, উৎকণ্ঠা এবং
প্রত্যাশা-তিনটাই এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। দীর্ঘ সময় ধরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়া,
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারি
চাকরিজীবীরা এই পে স্কেলকে দেখছেন একমাত্র স্বস্তির পথ হিসেবে। মূল প্রশ্ন
একটাই-নবম পে স্কেল কবে কার্যকর হবে, কী সুবিধা থাকছে এবং সরকার এ বিষয়ে শেষ
পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।সরকারি সূত্র ও কর্মচারী সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে
এখন পর্যন্ত নিয়মিত কোনো নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী
প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন কাঠামো হালনাগাদ হওয়ার
কথা। এই দীর্ঘ ব্যবধানের ফলে সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ আর্থিক চাপের মধ্যে
পড়েছেন। ফলে নবম পে স্কেল ২০২৫ তাদের কাছে শুধু একটি ঘোষণা নয়, বরং জীবনযাত্রা
টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের উদ্যোগে রাজধানীসহ
দেশের নানা স্থানে সমাবেশ ও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া
বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নবম পে কমিশন গঠন করলেও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা
তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যখন অর্থ উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বলা হয় যে পরবর্তী সরকার এই
পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে, তখন কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তাদের দাবি,
সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা নয়-এখনই সুস্পষ্ট ঘোষণা দরকার।নবম পে স্কেল ২০২৫ নিয়ে কর্মচারীরা মূলত কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর জানতে
চান। প্রথমত, নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল বেতন ও গ্রেডে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে।
তৃতীয়ত, পেনশন, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও পদোন্নতির মতো দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা
সুবিধাগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় আন্দোলনের মাত্রাও দিন
দিন বাড়ছে।কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যেই নতুন
বেতন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারি করা এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নবম পে স্কেল কার্যকর
করাই তাদের প্রধান দাবি। পাশাপাশি অস্থায়ী, ওয়ার্কচার্জ, মাস্টাররোল ও দৈনিক
মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ এবং আউটসোর্সিং নিয়োগপ্রথা বাতিলের বিষয়টিও
গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ এই কর্মচারীরাও সরকারি দপ্তরেরই অংশ, অথচ তারা সবচেয়ে বেশি
আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভোগেন।আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো-এই পে স্কেলে কি বৈষম্য কমবে? বহু কর্মচারীর অভিযোগ,
আগের পে স্কেলগুলোতে উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের ব্যবধান খুব বেশি ছিল, যা বৈষম্যের জন্ম
দিয়েছে। নবম পে স্কেল ২০২৫-এর ক্ষেত্রে তারা একটি “বৈষম্যমুক্ত” কাঠামো প্রত্যাশা
করছেন, যেখানে জীবনযাত্রার ন্যূনতম ব্যয় নিশ্চিত করা হবে।আইএলও কনভেনশনের আলোকে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, ন্যায্যমূল্যে রেশন সুবিধা এবং
শতভাগ পেনশন ব্যবস্থার পুনর্বহাল-এসব বিষয়ও নবম পে স্কেলের আলোচনার সঙ্গে সরাসরি
জড়িয়ে গেছে। কর্মচারীরা মনে করছেন, শুধু বেতন বাড়লেই চলবে না; বরং সামগ্রিক কর্মপরিবেশ
ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে এই পে স্কেলের প্রকৃত সফলতা।সব মিলিয়ে নবম পে স্কেল ২০২৫ এখন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং
দেশের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সরকার
দ্রুত স্পষ্ট সময়সূচি ও নির্দেশনা না দিলে আন্দোলন আরও জোরালো হতে পারে-এমন
আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে। —দৈনিক প্রথম সংবাদ