প্রত্যেক মানুষের শরীরের ঘ্রাণ আলাদা, যেন একেকটি অনন্য পরিচয়। এই ঘ্রাণ নির্ভর করে জিন, হরমোন, বয়স, মেজাজ, এমনকি খাদ্যাভ্যাসের ওপরও। স্কটল্যান্ডের স্টার্লিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রেইগ রবার্টস বলেন, “আমাদের শরীরের ঘ্রাণ শুধু প্রাকৃতিক নয়, এটি আমাদের খাদ্য ও জীবনযাত্রার প্রতিফলনও।”
নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য গবেষক লিনা বেগডাচের মতে, খাবার দুটি পথে আমাদের শরীরের গন্ধ পরিবর্তন করে, পেট ও ত্বকের মাধ্যমে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয় সালফার যৌগ, যা রসুন, পেঁয়াজ, বাঁধাকপি বা ব্রকোলির মতো খাবারে প্রচুর থাকে।
রসুনের ঘ্রাণ নিয়ে অভিযোগ অনেক, তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এটি বরং শরীরের ঘ্রাণকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। চেক প্রজাতন্ত্রের চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জান হ্যাভলিচেক ৪২ জন পুরুষের ঘামের ঘ্রাণ বিশ্লেষণ করে দেখেন, যারা বেশি রসুন খেয়েছিলেন তাদের বগলের ঘ্রাণ নারীদের কাছে বেশি ‘সেক্সি’ ও মনোরম মনে হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ শরীরের ভেতরকার স্বাস্থ্য উন্নত করে, যার প্রতিফলন মেলে বাইরের ঘ্রাণে।
২০১৭ সালের এক অস্ট্রেলীয় গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ফল ও সবজি খান, তাদের শরীর থেকে ফলের মতো মিষ্টি ও ফুলেল ঘ্রাণ বের হয়। গাজর, টমেটো ও পেঁপেতে থাকা ক্যারোটিনয়েড নামের যৌগ ত্বককে সামান্য সোনালি আভা দেয়, যা দৃষ্টিতেও আকর্ষণীয় মনে হয়। অন্যদিকে, অ্যাসপারাগাস খেলে শরীরে সাময়িক এক ধরনের ঘ্রাণ তৈরি হয়, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের গন্ধেও ধরা পড়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি জিনগত পার্থক্যের কারণে সবার ক্ষেত্রে এক নয়।
একই গবেষক হ্যাভলিচেকের আরেক পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাংসবিহীন খাদ্যাভ্যাস শরীরের ঘ্রাণকে করে তুলতে পারে আরও মনোরম। মাংস বা মাছের প্রোটিন ভেঙে যে যৌগ তৈরি হয়, তা ঘামে গিয়ে তীব্র গন্ধ তৈরি করে। কিছু ক্ষেত্রে এটি ‘মাছের ঘ্রাণ সিনড্রোম’ নামেও পরিচিত, যেখানে শরীর ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন নামের যৌগটি ভাঙতে পারে না।
এ ছাড়া, কার্বোহাইড্রেট নির্ভর খাবার, যেমন অতিরিক্ত ভাত, রুটি বা মিষ্টি, শরীরের ঘ্রাণকে করে তোলে কম আকর্ষণীয়।
অ্যালকোহল লিভারে ভেঙে অ্যাসিটালডিহাইড তৈরি করে, যা থেকে আসে পুরোনো মদের মতো তীব্র গন্ধ। একইভাবে, কফি ও চায়ের ক্যাফেইন ঘাম বাড়িয়ে ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যার ফলে শরীরের গন্ধ হয় আরও কটু।
হ্যাভলিচেকের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ৪৮ ঘণ্টা উপবাস করেন, তাদের শরীরের ঘ্রাণ সাধারণ খাদ্যগ্রহণকারীদের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয়। তবে বিপরীতে, ২০১৮ সালের এক সুইস গবেষণায় বলা হয়, উপবাসে নিশ্বাসের গন্ধ আরও তীব্র হয়।
খাদ্য ও শরীরের ঘ্রাণের সম্পর্ক যেমন জটিল, তেমনি মজারও। বিজ্ঞানীরা একমত, ফল ও সবজির পরিমাণ বাড়ালে দেহের ঘ্রাণ আরও প্রাকৃতিক ও আকর্ষণীয় হয়। অতএব, সুঘ্রাণ পেতে ব্যয়বহুল পারফিউম নয়, বেছে নিন রঙিন ফল, সবজি আর স্বাস্থ্যকর জীবনধারা।
নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও আকর্ষণীয় করে তুলতে আজ থেকেই শুরু করুন সঠিক খাদ্যাভ্যাস। সুঘ্রাণ আসুক ভেতর থেকেই।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫
প্রত্যেক মানুষের শরীরের ঘ্রাণ আলাদা, যেন একেকটি অনন্য পরিচয়। এই ঘ্রাণ নির্ভর করে জিন, হরমোন, বয়স, মেজাজ, এমনকি খাদ্যাভ্যাসের ওপরও। স্কটল্যান্ডের স্টার্লিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রেইগ রবার্টস বলেন, “আমাদের শরীরের ঘ্রাণ শুধু প্রাকৃতিক নয়, এটি আমাদের খাদ্য ও জীবনযাত্রার প্রতিফলনও।”
নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য গবেষক লিনা বেগডাচের মতে, খাবার দুটি পথে আমাদের শরীরের গন্ধ পরিবর্তন করে, পেট ও ত্বকের মাধ্যমে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয় সালফার যৌগ, যা রসুন, পেঁয়াজ, বাঁধাকপি বা ব্রকোলির মতো খাবারে প্রচুর থাকে।
রসুনের ঘ্রাণ নিয়ে অভিযোগ অনেক, তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এটি বরং শরীরের ঘ্রাণকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। চেক প্রজাতন্ত্রের চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জান হ্যাভলিচেক ৪২ জন পুরুষের ঘামের ঘ্রাণ বিশ্লেষণ করে দেখেন, যারা বেশি রসুন খেয়েছিলেন তাদের বগলের ঘ্রাণ নারীদের কাছে বেশি ‘সেক্সি’ ও মনোরম মনে হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ শরীরের ভেতরকার স্বাস্থ্য উন্নত করে, যার প্রতিফলন মেলে বাইরের ঘ্রাণে।
২০১৭ সালের এক অস্ট্রেলীয় গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ফল ও সবজি খান, তাদের শরীর থেকে ফলের মতো মিষ্টি ও ফুলেল ঘ্রাণ বের হয়। গাজর, টমেটো ও পেঁপেতে থাকা ক্যারোটিনয়েড নামের যৌগ ত্বককে সামান্য সোনালি আভা দেয়, যা দৃষ্টিতেও আকর্ষণীয় মনে হয়। অন্যদিকে, অ্যাসপারাগাস খেলে শরীরে সাময়িক এক ধরনের ঘ্রাণ তৈরি হয়, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের গন্ধেও ধরা পড়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি জিনগত পার্থক্যের কারণে সবার ক্ষেত্রে এক নয়।
একই গবেষক হ্যাভলিচেকের আরেক পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাংসবিহীন খাদ্যাভ্যাস শরীরের ঘ্রাণকে করে তুলতে পারে আরও মনোরম। মাংস বা মাছের প্রোটিন ভেঙে যে যৌগ তৈরি হয়, তা ঘামে গিয়ে তীব্র গন্ধ তৈরি করে। কিছু ক্ষেত্রে এটি ‘মাছের ঘ্রাণ সিনড্রোম’ নামেও পরিচিত, যেখানে শরীর ট্রাইমিথাইলঅ্যামিন নামের যৌগটি ভাঙতে পারে না।
এ ছাড়া, কার্বোহাইড্রেট নির্ভর খাবার, যেমন অতিরিক্ত ভাত, রুটি বা মিষ্টি, শরীরের ঘ্রাণকে করে তোলে কম আকর্ষণীয়।
অ্যালকোহল লিভারে ভেঙে অ্যাসিটালডিহাইড তৈরি করে, যা থেকে আসে পুরোনো মদের মতো তীব্র গন্ধ। একইভাবে, কফি ও চায়ের ক্যাফেইন ঘাম বাড়িয়ে ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যার ফলে শরীরের গন্ধ হয় আরও কটু।
হ্যাভলিচেকের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ৪৮ ঘণ্টা উপবাস করেন, তাদের শরীরের ঘ্রাণ সাধারণ খাদ্যগ্রহণকারীদের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয়। তবে বিপরীতে, ২০১৮ সালের এক সুইস গবেষণায় বলা হয়, উপবাসে নিশ্বাসের গন্ধ আরও তীব্র হয়।
খাদ্য ও শরীরের ঘ্রাণের সম্পর্ক যেমন জটিল, তেমনি মজারও। বিজ্ঞানীরা একমত, ফল ও সবজির পরিমাণ বাড়ালে দেহের ঘ্রাণ আরও প্রাকৃতিক ও আকর্ষণীয় হয়। অতএব, সুঘ্রাণ পেতে ব্যয়বহুল পারফিউম নয়, বেছে নিন রঙিন ফল, সবজি আর স্বাস্থ্যকর জীবনধারা।
[915]
নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও আকর্ষণীয় করে তুলতে আজ থেকেই শুরু করুন সঠিক খাদ্যাভ্যাস। সুঘ্রাণ আসুক ভেতর থেকেই।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

আপনার মতামত লিখুন