নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি নির্বাচনের পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই তরুণ ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী তার বিজয় ভাষণে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপনার জন্য আমার চারটি শব্দ আছে—শব্দের আওয়াজ বাড়ান।”
এই মন্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম Truth Social-এ প্রতিক্রিয়া দেন, ...এবং তাই শুরু হয়!
এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় মামদানিকে “ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কমিউনিস্ট ভবিষ্যৎ” বলে আখ্যা দেন এবং সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি মামদানি জেতে, নিউইয়র্কের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ৭ শতাংশ, ফেডারেল তহবিল থেকে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ১৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিত করেছেন এবং চাইলে আরও কমাতে পারেন।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মামদানির অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার—“জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও সামাজিক সেবা বৃদ্ধি”—বড় বাধার মুখে পড়বে।
মেয়র মামদানি শহরের ধনী কর্পোরেশন ও শীর্ষ আয়কারীদের উপর কর বাড়িয়ে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আনার পরিকল্পনা করেছেন। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলের অনুমোদন প্রয়োজন, যিনি এখনো পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করার বিষয়ে দ্বিধায় আছেন।
গভর্নরের এই অনিশ্চয়তা মামদানির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান বাড়াতে পারে এবং ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
নিউইয়র্ক দীর্ঘদিন ধরে “অভয়ারণ্য শহর (Sanctuary City)” হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি ইতিমধ্যেই শহরের অভিবাসন আদালতগুলোতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি ফেডারেল তহবিল কমিয়ে দেন বা অভিবাসন নীতি কঠোর করেন, তাহলে নিউইয়র্ক সিটির হাজার হাজার নিম্নআয়ের মানুষ, অভিবাসী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অন্যদিকে, মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি “সবার জন্য সমান সুযোগ ও মানবিক শহর গড়বেন।”
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য চাপ ও অর্থনৈতিক বাধার মুখে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কতটা সম্ভব—তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি নির্বাচনের পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই তরুণ ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী তার বিজয় ভাষণে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপনার জন্য আমার চারটি শব্দ আছে—শব্দের আওয়াজ বাড়ান।”
এই মন্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম Truth Social-এ প্রতিক্রিয়া দেন, ...এবং তাই শুরু হয়!
এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় মামদানিকে “ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কমিউনিস্ট ভবিষ্যৎ” বলে আখ্যা দেন এবং সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি মামদানি জেতে, নিউইয়র্কের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ৭ শতাংশ, ফেডারেল তহবিল থেকে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ১৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিত করেছেন এবং চাইলে আরও কমাতে পারেন।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মামদানির অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার—“জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও সামাজিক সেবা বৃদ্ধি”—বড় বাধার মুখে পড়বে।
মেয়র মামদানি শহরের ধনী কর্পোরেশন ও শীর্ষ আয়কারীদের উপর কর বাড়িয়ে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আনার পরিকল্পনা করেছেন। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলের অনুমোদন প্রয়োজন, যিনি এখনো পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করার বিষয়ে দ্বিধায় আছেন।
গভর্নরের এই অনিশ্চয়তা মামদানির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান বাড়াতে পারে এবং ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
নিউইয়র্ক দীর্ঘদিন ধরে “অভয়ারণ্য শহর (Sanctuary City)” হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি ইতিমধ্যেই শহরের অভিবাসন আদালতগুলোতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি ফেডারেল তহবিল কমিয়ে দেন বা অভিবাসন নীতি কঠোর করেন, তাহলে নিউইয়র্ক সিটির হাজার হাজার নিম্নআয়ের মানুষ, অভিবাসী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অন্যদিকে, মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি “সবার জন্য সমান সুযোগ ও মানবিক শহর গড়বেন।”
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য চাপ ও অর্থনৈতিক বাধার মুখে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কতটা সম্ভব—তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন