অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান। তার এই পোস্টটি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায়।
সরকার নিরপেক্ষতার মানদণ্ডে ব্যর্থ — রাশেদ খান
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন,
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনোভাবেই নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। বরং কিছু রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিয়ে ম্যানেজ করে চলছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, স্বজনপ্রীতি, দলীয় সুবিধা প্রদান ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব এখন সরকারের অভ্যন্তরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তার মতে, এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনের জন্য উদ্বেগজনক।
বিতর্কিত উপদেষ্টারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে পারে
রাশেদ খান তার পোস্টে আরো উল্লেখ করেন,
“যেসব উপদেষ্টা আত্মীয়স্বজনকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়োগ দিয়েছেন, দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন বা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাত দেখিয়েছেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবেন না।”
তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকেই সংস্কার শুরু করতে হবে।
নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের জন্য শুদ্ধি অভিযান চালানো এবং বিতর্কিত উপদেষ্টাদের সরিয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়
গণ অধিকার পরিষদের এই নেতা আরও বলেন,
“বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মকর্তাদের রদবদলের পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদেও পরিবর্তন আনা জরুরি।”
তার মতে, জনগণ এখন একটি নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের প্রত্যাশা করছে, যা শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সম্ভব।
জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতেই হবে
রাশেদ খান কঠোর ভাষায় বলেন,
“যেসব উপদেষ্টা দুর্নীতি করেছেন, আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন জায়গায় পুনর্বাসন করেছেন, সরকারকে নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারার সম্পদ মনে করেছেন—তাদের আজ হোক কাল হোক জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতেই হবে।”
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে উপদেষ্টা পরিষদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সরকারকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
একদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, অন্যদিকে সরকারের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে সমালোচনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশেদ খানের মতো তরুণ রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের অবস্থান নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৫
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান। তার এই পোস্টটি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায়।
সরকার নিরপেক্ষতার মানদণ্ডে ব্যর্থ — রাশেদ খান
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন,
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনোভাবেই নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। বরং কিছু রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিয়ে ম্যানেজ করে চলছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, স্বজনপ্রীতি, দলীয় সুবিধা প্রদান ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব এখন সরকারের অভ্যন্তরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তার মতে, এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনের জন্য উদ্বেগজনক।
বিতর্কিত উপদেষ্টারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে পারে
রাশেদ খান তার পোস্টে আরো উল্লেখ করেন,
“যেসব উপদেষ্টা আত্মীয়স্বজনকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়োগ দিয়েছেন, দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন বা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাত দেখিয়েছেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবেন না।”
তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকেই সংস্কার শুরু করতে হবে।
নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের জন্য শুদ্ধি অভিযান চালানো এবং বিতর্কিত উপদেষ্টাদের সরিয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়
গণ অধিকার পরিষদের এই নেতা আরও বলেন,
“বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মকর্তাদের রদবদলের পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদেও পরিবর্তন আনা জরুরি।”
তার মতে, জনগণ এখন একটি নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের প্রত্যাশা করছে, যা শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সম্ভব।
জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতেই হবে
রাশেদ খান কঠোর ভাষায় বলেন,
“যেসব উপদেষ্টা দুর্নীতি করেছেন, আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন জায়গায় পুনর্বাসন করেছেন, সরকারকে নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারার সম্পদ মনে করেছেন—তাদের আজ হোক কাল হোক জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতেই হবে।”
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে উপদেষ্টা পরিষদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সরকারকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
একদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, অন্যদিকে সরকারের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে সমালোচনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশেদ খানের মতো তরুণ রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের অবস্থান নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

আপনার মতামত লিখুন