বাংলাদেশ শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১

এআই নীতি প্রণয়নে সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার দাবি টিআইবি ও আর্টিকেল নাইনটিনের

দৈনিক প্রথম সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৪, ০৪:০৬ এএম

এআই নীতি প্রণয়নে সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার দাবি টিআইবি ও আর্টিকেল নাইনটিনের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি ২০২৪ খসড়া প্রণয়নে উদ্যোগী হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও আর্টিকেল নাইনটিন। তবে এটির খসড়া প্রস্তুত ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে কাজ করে, এমন কোনো নাগরিক সংস্থাকে যুক্ত না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থা দুটি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতির খসড়া নিয়ে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় মানবাধিকার ও সুশাসন নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলোকে উপেক্ষার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে সংস্থা দুটি।

সংস্থা দুটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতির খসড়াটি মূলত বিভিন্ন দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতাগুলোকে মাথায় রেখে করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি সেবা, শাসন ও বিচারিক ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ, ডেটা গভর্ন্যান্স ও নজরদারি ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দেশের নাগরিকের ওপর এই নীতির বহুমুখী প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট আলোচনা করা হয়নি। এই খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করে, এমন কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।

জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি ২০২৪ খসড়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি স্বাধীন জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় এআই উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথাও বলা হয়েছে। টিআইবি ও আর্টিকেল নাইনটিন বলছে, এই পরিষদের উপদেষ্টা, চেয়ারম্যানসহ প্রায় সব সদস্যই সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি। ফলে এই পরিষদের স্বাধীনতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন থেকে যায়, একইভাবে মানবাধিকার বা নাগরিকের তথ্যসহ সব সুরক্ষার বিষয়টি গৌণ হয়ে পড়ে।

বিবৃতিতে টিআইবি ও আর্টিকেল নাইনটিনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি ২০২৪ খসড়া পর্যালোচনা ও নীতি প্রণয়নে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মকৌশল তৈরি, নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে ও এআই উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে বিশেষজ্ঞসহ নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা।

হ্যাকিং, স্প্যামিংয়ের পাশাপাশি মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য প্রচার, ভুয়া ভিডিও বানানোর মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বা রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে তা নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, গোপনীয়তার বিষয়গুলোর প্রতি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

টিআইবি ও আর্টিকেল নাইনটিন বলছে, খসড়া নীতিমালায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নজরদারি ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। মূলত জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে এই নজরদারির ব্যবস্থা সৃষ্টির কথা বলা হলেও তা নাগরিকের তথ্য বিশ্লেষণ ও রাষ্ট্রীয় নজরদারির মাধ্যমে ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ কায়েমের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। নজরদারির প্রবণতা থেকে সরে এসে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিতে খসড়াটিকে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

 

Link copied!

সর্বশেষ :