বাংলাদেশ সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

চুয়াডাঙ্গায় আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি,চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৪, ০৮:০৫ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা

চুয়াডাঙ্গায় আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর্দ্রতা ১১ শতাংশ। হাটকালুগঞ্জে অবস্থিত প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বিকেল ৩টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে এটাই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। গত শনিবার খুলনা জেলার আরেক জেলা যশোরে মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় ওইদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক জামিনুর রহমান বলেন, চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল ভৌগলিকভাবে কর্কটক্রান্তির কাছাকাছি। তাই এই গ্রীষ্মে চুয়াডাঙ্গা এলাকায় প্রতিনিয়ত রোদ ঝলসে যাচ্ছে। এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও চুয়াডাঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা সমতলভূমি। এর ফলে তাপমাত্রার সামান্য তারতম্য ঘটে। তাপ থেকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হওয়া উচিত। এছাড়াও জলাধার এবং প্রচুর গাছপালা থাকা উচিত।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি চুয়াডাঙ্গায় এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয় না। এপ্রিলে বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা বেশি দিন স্থায়ী হয়। তাছাড়া এলাকায় পর্যাপ্ত পানির মজুত নেই। জলাধার থেকে জল বাষ্প হয়ে মেঘ তৈরি করে। এই পর্যায়টি একটি শীতল পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু এ এলাকায় তেমন কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে এপ্রিলে মৃদু থেকে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহের পর চুয়াডাঙ্গায় এখন তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। খুব গরম লাগছে। মানুষ ঘরের বাইরে কোথাও স্বস্তি পায় না। সর্বত্র দীর্ঘশ্বাস শোনা যাচ্ছে। কৃষি শ্রমিকসহ শ্রমজীবী ​​জনগোষ্ঠীর অবস্থা বিপর্যয়কর। রাস্তার উপরিভাগ গলে যাচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ে যানবাহন চলাচলও।

আজ দুপুর ২টার দিকে সেদের প্রদেশের নাহারপুর গ্রামে রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন আব্দুল রহমান (৫৪) নামের ওই চালক। তিনি চুয়াডাঙ্গা থেকে হিজলগলী বাজারের বেকারিতে আটার ব্যাগ নিয়ে আসেন। আব্দুর রহমান বলেন, “আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে ভ্যান চালাচ্ছি, জানের ভেতর ছটফট করচে। কিচুতিই শান্তি পাচ্চি নে।’’

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানা এলাকার নাহারপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহাতাবুদ্দিন সকাল আড়াইটার দিকে বাড়ির পাশের কেরু অ্যান্ড কোম্পানির নির্জন আখ ক্ষেতে গরু চরছিলেন। তিনি মাথায় ছাতা নিয়ে নয়টি গরু দেখেছেন। মাহাতাব বলেছেন, আমি মাঠে এসেছি গরু ঘাস খাওয়াতে এবং গরু বাঁচাতে।‍‍

সদর জেলার নাহালপুর ইউনিয়নের কেষ্টপুর গ্রামের একজন প্রবীণ কৃষক ৮০ বছর বয়সী মোখদ মন্ডল প্রচণ্ড গরম সম্পর্কে বলেন। পৃথিবীতে আমরা যত বেশি বাড়াবাড়ি করি, ততই আমাদের শাস্তি হয়। নিজিদির মতে, সবকিছু উপরে এবং নিচে যায়। কেউ পুকুর ভরাট করে, কেউ কেউ খোলা কৃষি পুকুর কাটে। কাইটে ভাটায় পুড়ানো হচ্চে।‍‍

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পরিচালক আতাওয়ার রহমান মুন্সী প্রথম সংবাদকে বলেন, তাপপ্রবাহ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত, একেবারে প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে না থাকাই ভাল। দিনে ২-৩ বার গোসল করতে হবে। মুখে খাওয়ার নরমাল স্যালাইন (ওআরএস) অন্তত একবার খেতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে। ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা পানি খাওয়া যাবে না।

Link copied!

সর্বশেষ :