বাংলাদেশ শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমলেও স্বস্তি নেই

জেলা প্রতিনিধি,চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশিত: মে ২, ২০২৪, ১০:২১ পিএম

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমলেও স্বস্তি নেই

ফাইল ছবি

এপ্রিল মাসে চুয়াডাঙ্গায় ৪৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জে অবস্থিত প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ৪০ বছরের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও। স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, ২ মে বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে। তবে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও তা চরম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দাদের স্বস্তি দিতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৯ শতাংশ। জেলাজুড়ে এখনও বয়ে চলেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ভেতরে-বাইরে সব জায়গায় মানুষ হাঁপাচ্ছে। এতে বাড়ির নারী ও শিশু সদস্যরা বেশি অস্বস্তিতে পড়ে। বিশেষ করে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের অবস্থা খুবই গুরুতর।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান প্রথম সংবাদকে বলেন, গত দুই দিনে তাপমাত্রা ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপের রেকর্ড থেকে ১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। এভাবে ১ ডিগ্রি বা তার বেশি হারে তাপমাত্রা কমতে থাকবে। আপাতত চুয়াডাঙ্গার মানুষকে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, "বর্তমানে এ জেলায় তাপমাত্রা বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৫ মে বৃষ্টি হতে পারে, তবে পুরো জেলায় তা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ৬ তারিখ থেকে হালকা বৃষ্টি নামবে এবং তাপমাত্রা কমবে। স্বাভাবিকের কাছাকাছি হবে।

চুয়াডাঙ্গা নগরীর বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বর খুবই ব্যস্ত। সড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের দুই সদস্য একা। পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়াতেই চোখ যায় ছাতাওয়ালা এক ফল বিক্রেতার দিকে আর তার পাশে গামছা পড়া ফেরিওয়ালা পুরনো রাস্তার বাজারের সামনে।

সেখানে গিয়ে এক-পা-দু-পা করে পরপর কয়েকটা ছবি তোলার পর দুজনের নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে ছাতাওয়ালা লোকটি পাল্টা জবাব দিয়ে বললেন, গরমের কষ্ট কি কমবে বলে? নাম এবং পরিচয়? এরপর এক নিঃশ্বাসে বললেন,  জানলে আমাদেরকে বললেন -কখন তাপ বাড়বে, কখন গরম হবে, কখন আগুন জ্বলবে, কয়লায় পরিণত হবে, জ্বলবে না।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার মাঠে মাঠে মাঠে ব্যস্ত দেখা যায় কৃষি শ্রমিকদের। ভ্যাপসা গরমে ধান কাটা শ্রমিকদের চোখে-মুখে দেখা যায় চরম অস্বস্তি। সময়ে সময়ে শ্রমিকদের ধানক্ষেত ছেড়ে গাছের নিচে ছায়ায় বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।

আলমডাঙ্গার খাসকাররা ইউনিয়নের রাইসা গ্রামের মাঠে একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন চার শ্রমিক। পাশে বসা কৃষক জাহাঙ্গীর জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে হাইব্রিড-৬ ধানের আবাদ করেছেন। গরমের কারণে ক্ষেতে কাজ করতে রাজি নন শ্রমিকরা। অনেক অনুরোধের পর চারজন শ্রমিক পেতে পেরেছি।

বিকেলে সদর উপজেলার দৌলতদিয়াদে একটি ময়দা কলের সামনে রাজন নামের এক শ্রমিক পানির পাইপে মাথাসহ সারা শরীরে পানি ঢালছিলেন। আশেপাশে কিছু শ্রমিক হাতে-মুখে পানি নিয়ে ত্রাণ খুঁজছিলেন। উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের মনিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজা মিয়া জানান, গরমে কাজ করতে করতে শ্রমিকরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, অসহনীয় গরমে মালিকের নির্দেশে শ্রমিকদের কাজের মাঝে বিশ্রাম দিতে হবে। নইলে গরমে মরে যাবে।‍‍`

চুয়াডাঙ্গার মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা মিল্টন পেশায় ভ্যানচালক। তিনি বলেন, "আগে এদিক-ওদিক গাড়ি চালানো হতো। গ্রীষ্মকালে রাত ১১টার পর একনকে রাস্তায় হাঁটতে দেওয়া হয় না। মাদ্দি স্ট্রিটে লাবলিউ পচেন্দরকে খুঁজে পাচ্ছি না।‍‍`

শুধু রিকশা বা ভ্যান নয়, দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ রুটেও অস্বাভাবিক হারে যাত্রী কমিয়েছে। রয়্যাল এক্সপ্রেসের মালিক এনামুল হক লোটাস এ প্রতিবেদককে বলেন, তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর থেকে চুয়াডাঙ্গা থেকে দূরপাল্লার সব রুটে যাত্রী সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো দিন ঘুরতে গিয়েও খরচ জোগাড় হয় না।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আতাউর রহমান মুন্সী প্রথম সংবাদকে বলেন,"তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির নিচে নামা পর্যন্ত পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে না। তাই তাপমাত্রা এক-দুই ডিগ্রি কমে যাওয়ার পর কেউ বাইরে যেতে উৎসাহী হবেন না। ফলো করার পাশাপাশি। স্বাস্থ্য সতর্কতা, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এবং তাপপ্রবাহের সময় দুই বা ততোধিক গোসল করুন, ভাজা খাবার এবং চা-কফি এড়িয়ে চলুন যাতে শরীর ঠান্ডা থাকে।

Link copied!

সর্বশেষ :