বাংলাদেশ সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে ভয়ংকর সব অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৪, ১০:৪১ পিএম

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে ভয়ংকর সব অভিযোগ

গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে মিল্টন সমাদ্দার ।ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেছেন, ‍‍`চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার‍‍` নামে একটি আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ‍‍`ভয়ঙ্কর‍‍`। ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “মিল্টন সমাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে। এসব করে থাকলে সে জঘন্য অপরাধ করেছে। তথ্য পাওয়া গেলে তা বাদ যাবে না।

জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বুধবার রাতে ঢাকার মিরপুর থেকে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয় ডিবি। পরে সন্ধ্যায় ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অতিরিক্ত কমিশনার হারুন-অর-রশিদ। সেখানে তিনি মিল্টনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা বলেন।

মিলটন সমাদ্দার ঢাকার মিরপুরে ‍‍`চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার‍‍` নামে একটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। তার মতে, গৃহহীন বৃদ্ধ ও শিশুদের সেখানে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি সাভারে জমি ক্রয় করে স্থায়ী আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। মিল্টন সমাধার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অসহায় বৃদ্ধ ও শিশুদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রচারণা চালান। এ নিয়ে অনেক ভিডিও চিত্র দিয়েছেন তিনি। ১.৬ মিলিয়ন মানুষ তাকে ফেসবুকে অনুসরণ করে।

ভয়ংকর
মিলটন সমাদ্দার। ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিলটনের বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ উঠেছে। মিল্টন একটি ফেসবুক ভিডিওতে এই দাবিগুলি অস্বীকার করেছেন। এরই মধ্যে তার কয়েকজন সহযোগী ও সহযোগী তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তোলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ বলেন, “মিল্টন সমাদারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তিনি অসহায় শিশু ও বৃদ্ধদের তার প্রতিষ্ঠিত আশ্রয়ে নিয়ে আসেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার পরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তিনি স্বীকার করেছেন যে সেখানে একটি সার্জারি (সার্জারি সেন্টার) রয়েছে। অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে থাকলে লাইসেন্স থাকতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।

মিল্টনকে একটি ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে যে তিনি বেশিরভাগ লাশ রাতে দাফন করতেন। এ প্রসঙ্গে ডিবি কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ বলেন, “তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল কেন রাতে লাশ দাফন করলেন? উত্তরে বলেন, রাতে লাশ দাফন না হলে লোকজন আমাকে (মিল্টন) বিভিন্ন প্রশ্ন করে।

ডিবি কর্মকর্তা হারুন-উর-রশিদ বলেন, সমাদারের বিরুদ্ধে দাফনের বিবরণে অমিল রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এটাও জানি যে তিনি ইতোমধ্যে ৯০০ লাশ দাফন করেছেন। কিন্তু ৮৩৫টি লাশের সংখ্যায় অমিল রয়েছে। তার কাছে এসব লাশ দাফনের কোনো কাগজপত্র নেই। তিনি নিজেই ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি করতে গিয়ে চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করেছেন বলে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন। তার আশ্রমের পাশে একটি মসজিদ আছে, যেখান থেকেও প্রশ্ন উঠেছে, মৃতের শরীরে কিডনির পাশে রক্তের দাগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মিল্টন সমাদ্দারের দুটি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে জানিয়ে ডিবি কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ বলেন, তার একটি আশ্রয়কেন্দ্র মিরপুরে এবং অন্যটি সাভারে। তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০০ থেকে ৭০০ লোক রয়েছে। কিন্তু সেখানে (আশ্রয়কেন্দ্র) খোঁজার পর দেখা গেল ২০-৩০ বা ৪০ জনের বেশি নেই। আমাদের আসার কারণ আমরা তাকে গ্রেফতার করতে এসেছি। কিছু অভিযোগকারী  আছে, তারা মামলা করবে। আমরা তাকে হেফাজতে নেব এবং কত লোক তার আস্তানায় গিয়েছিলেন তা জিজ্ঞাসাবাদ করব। সেখানে কত মানুষ মারা গেল? অস্ত্রোপচারের যে জায়গা থেকে তিনি কিডনি বিক্রি করেছেন, সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।

হারুন-অর-রশিদ মিল্টন সমদ্দারের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে বলেন, “বাবাকে মারধর করায় স্থানীয়রা তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় মিল্টনের বেড়ে ওঠা। এরপর শাহবাগে এসে একটি ফার্মেসিতে কাজ করেন। সেখানে ওষুধ চুরির দায়ে তাকে বের করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি কিছু প্রশিক্ষণ নেন। পরে হালদার নামে এক নার্সকে বিয়ে করেন মিঠু। বিয়ের পর তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে মিরপুরে ‍‍`চাইল্ড অ্যান্ড এজ কেয়ার‍‍` নামে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন।
 

Link copied!

সর্বশেষ :