বাংলাদেশ সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

হোয়াটসঅ্যাপে লোভনীয় পার্ট টাইম চাকরির প্রস্তাব- কী করবেন?

দৈনিক প্রথম সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৪, ১১:৪৫ পিএম

হোয়াটসঅ্যাপে লোভনীয় পার্ট টাইম চাকরির প্রস্তাব- কী করবেন?

সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন অনেকেই

গত অক্টোবরে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে আসা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজে চাকরির প্রস্তাব পান ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা সোহেলি সুলতানা। ঐ মেসেজে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় যে দৈনিক অন্তত পাঁচশো টাকা আয় হবে, এমন একটি অনলাইন পার্ট টাইম চাকরি করতে তিনি আগ্রহী কিনা?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করা মিজ সুলতানা সেসময় বিভিন্ন জায়গায় চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছিলেন আর নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশনি করতেন। স্বাভাবিকভাবেই ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করার প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজে তিনি কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হয় এবং সেখানে তাকে কাজ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

মূলত, অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার একটি ট্রেডিং ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির কাজের প্রস্তাব দেয়া হয় তাকে, যেখানে পণ্য বিক্রি করতে পারলে তিনি কমিশন পাবেন বলে জানানো হয় তাকে।

টেলিগ্রামে তাকে একটি ওয়েবসাইটে লগ-ইন করতে বলা হয়। মিজ সুলতানা তার ফোন নম্বর ও মোবাইলে টাকা লেনদেনের একটি অ্যাপের অ্যাকাউন্টের নম্বর দিয়ে সেই সাইটে লগ-ইন করেন। লগ-ইন করার সময় তার টাকা লেনদেনের মোবাইল অ্যাপের প্রোফাইলের পিন নম্বরও ঐ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করান তিনি।

মিজ. সুলতানা বলছিলেন, “আমাজন, দারাজের মত একটি পণ্য কেনাবেচার ওয়েবসাইটে আমাকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়া হয়। আর কাজ শুরু করার আগেই আমার অ্যাকাউন্টে একটা ছোট অ্যামাউন্ট পাঠানো হয় উপহার হিসেবে।

তার কাজটা ছিল ঐ ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট পণ্য কেনার এবং সেই সাইটের মাধ্যমেই সেগুলো বিক্রি করার। কত টাকার মধ্যে কোন পণ্য কিনতে হবে, সেটিও তাকে ঠিক করে দেয়া হত টেলিগ্রাম মেসেজের মাধ্যমে।

“শুরুতে ৫০০ টাকার একটি পণ্য কিনতে বলা হয়। অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা দিয়ে সেটি কেনার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায় এবং আমাকে কমিশনের একটি অংশও পাঠানো হয়। আমার অ্যাকাউন্টে টাকা পাওয়ার মেসেজও আসে”, বলছিলেন সোহেলি সুলতানা।

এরপরের ধাপে তাকে এক হাজার টাকার একটি পণ্য কিনতে বলা হয় এবং সেটিও কেনার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। এবার আগের চেয়েও বড় অঙ্কের কমিশন পান তিনি।

“দ্বিতীয় ধাপের এক হাজার টাকার পণ্য কিনতে আমার পুরো টাকাটা দিতে হয়নি কারণ ঐ ওয়েবসাইটে আমার প্রোফাইলে প্রথমবারের ৫০০ টাকা আর প্রথম কাজের কমিশনের টাকা দেখাচ্ছিল। ঐ টাকার সাথে কিছু টাকা যোগ করে এক হাজার টাকা দিয়ে দ্বিতীয় পণ্যটি কিনি”, বলছিলেন মিজ সুলতানা।

এরপর একই পদ্ধতিতে পাঁচ হাজার টাকার একটি পণ্য কিনে বিক্রি করেন তিনি।

“পাঁচ হাজার টাকার কাজটি করার পর আমি ঠিক করি যে আর এই কাজ করবো না। আমি তাদের জানাই যে আমি আমার মূলধন ও আয় তুলে নিতে চাই। তখন আমাকে জানানো হয় যে আরও দুটি ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করলে আমি সব টাকা তুলতে পারবো”, বলছিলেন মিজ. সুলতানা।

এই পর্যায়ে সোহেলি সুলতানার কিছুটা সন্দেহ হয় পুরো বিষয়টি নিয়ে। তবে পরের ধাপে তিনি বিনিয়োগ করতে অপারগতা জানালে যখন প্রতিষ্ঠান তার আংশিক টাকা দিয়ে দেবে বলে জানায়, তখন কিছুটা আশ্বস্ত হন .

Link copied!

সর্বশেষ :