বাংলাদেশ সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

নীল পূজা বা চৈত্র সংক্রান্তি সামনে রেখে গ্রামে ঘুরছে নীলসন্যাসীর দল

দৈনিক প্রথম সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৪, ০৮:০১ পিএম

নীল পূজা বা  চৈত্র সংক্রান্তি  সামনে রেখে গ্রামে ঘুরছে নীলসন্যাসীর দল

চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে শরীয়তপুরের বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় নীলসন্যাসীরা যাচ্ছেন । ছবি: প্রথম সংবাদ

চৈত্র সংক্রান্তিতে নীল পূজা বা নীরষষ্ঠী উদযাপনে ভক্তরা রাতে শরীয়তপুরের বিভিন্ন গ্রামে যায়। বাঙালি ঐতিহ্যবাদীদের কাছে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোক উৎসব। এটি মূলত নীলা নির্বতী বা শিব দুর্গার বিবাহ উদযাপন বলে মনে করা হয়। বিভিন্ন দেব-দেবীর সাজে ভক্তরা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিভিন্ন গ্রামে যাত্রা করছেন। ভোর পর্যন্ত তারা বিভিন্ন বাড়ির উঠানে গানের তালে নাচে। তাদের বলা হয় নাখেল নীলাসন।

শরীয়তপুরের বিভিন্ন মন্দিরের ভক্তরা বলছেন যে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের গৃহিণীরা নিজেদের, তাদের স্বামী এবং তাদের সন্তানদের সুস্থতা কামনা করার জন্য নির্স্তি উদযাপন করে। গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুরা এ উৎসব উপভোগ করে। নীলসন্ন্যাসী বাড়ির উঠোনে দাঁড়ানোর সাথে সাথে বাড়ির মহিলারা তাদের ফুল ও বিভিন্ন ফল দিয়ে বরণ করে নেন।
নীলসন্যাসীরা শিব-দুর্গা, কালী-মহাদেব এবং রাধাকৃষ্ণের মতো বিভিন্ন পোশাকে ঘরে ঘরে যান। চাল, মটরশুটি এবং বিভিন্ন শাকসবজি প্রতিটি বাড়ি থেকে সরবরাহ করা হয়। পায়রা বৈশাখের পর চাল, ডাল ও সবজি নিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়।

শরীয়তপুর জেলার অন্তত দশটি মন্দিরের ভক্তরা নীলসন্ন্যাসীর সাজে বিভিন্ন গ্রামে বেড়াতে আসেন। গতকাল পাটানিগাঁও গ্রামের নির্সন্যাসিরা জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দুদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করেন। রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত তারা বিভিন্ন বাড়িতে শিবগান ও নৃত্য পরিবেশন করে।
নীলসন্ন্যাসী পার্টির পরিচালক স্বপন মণ্ডল প্রথম সাঙ্গম্বুকে বলেন, “এলাকার কিশোর-কিশোরীরা নীলসন্যার মতো পোশাক পরে। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তির তিন দিন আগে আমরা গ্রামে গ্রামে নীল পূজা করি। আমরা সবাই কর্মজীবী ​​মানুষ। তবে প্রতি বছর এই তিনদিন কাজ না করে নিজের ধর্মীয় সংস্কৃতির চর্চা করি। নতুন প্রজন্ম যেন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে ভুলে না যায় তা নিশ্চিত করতে আমরা তরুণ-তরুণীদের এতে সম্পৃক্ত করি।

পালং জেলার গৃহিণী রাত্রি ঘোষ প্রথম সঙ্গমকে বলেন, “আমি প্রতি বছর নীলাষষ্ঠী উপলক্ষে উপবাস করি। আমি সারা বছর অপেক্ষা করছিলাম নীলসন্ন্যাসীর দল গ্রামে আসবে।” আর আমরা পূজায় এসে স্বামী, সন্তান ও পরিবারের সবার মঙ্গল কামনা করব।শরীয়তপুর জেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অনিক ঘটক চৌধুরী প্রথম সঙ্গমকে বলেন, “আমরা সারা বছরের সব ভুল-ত্রুটি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। চৈত্র সংক্রান্তি আমাদের বাঙালিদের আধুনিক সংস্কৃতি। গ্রামে চৈত্রসংক্রান্তি নানা আয়োজনে পালিত হতো। সময়ের সাথে সাথে তা শুধুই স্মৃতি হয়ে যায়। এখন শুধু নীলষষ্ঠীতেই এই উৎসবের স্বাদ পাওয়া যায়।

 


 

Link copied!

সর্বশেষ :