বাংলাদেশ শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১
গাজীপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ

চলে গেলেন ১১ জন আরও ১০ জন সংকটাপন্ন

দৈনিক প্রথম সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৪, ০১:১৯ এএম

চলে গেলেন ১১ জন আরও ১০ জন সংকটাপন্ন

প্রতীকী ছবি: প্রথম সংবাদ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শিশুসহ আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- জহিরুল ইসলাম কুটি (৩২), মোতালেব হোসেন (৪৮), সোলাইমান (১০), গোলাম রাব্বি (১১) ও তাওহীদ (৭)। এ নিয়ে এই আগুনের ঘটনায় একে একে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মারা যান সোলাইমান ও রাব্বি। এর আগে রাত দেড়টার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মারা যান জহিরুল ইসলাম ও রাত ৩টার দিকে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে মারা যান মোতালেব হোসেন এবং সন্ধ্যায় তাওহীদ নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়।

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, মৃত সোলাইমানের শরীরের ৮০ শতাংশ, রাব্বির ৯০ শতাংশ, মোতালেবের শরীরের ৯৫ শতাংশ, জহিরুলের ৬৫ শতাংশ ও তাওহীদের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গতকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় ১১ জন মারা গিয়েছেন। এখনো ১৭ জন ভর্তি আছেন। এরমধ্যে ১০ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। আর বাকিরা আপাতত স্ট্রবল আছে। তবে এই ১০ জনের অবস্থা বেশ খারাপ।

 

মোট ৩২ জন ভর্তি ছিলেন। চার জনের ছুটি হয়েছে।
সোলাইমানের মামা মো. সোহাগ বলেন, ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার বালুকজান গ্রামে তাদের বাড়ি। বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। বাবা-মায়ের সঙ্গে কালিয়াকৈরে ভাড়া বাসায় থাকতো। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়তো সোলাইমান। গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হওয়ার পর সেখানে দেখতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছিল সোলাইমান।

নিহত তাওহীদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামে। সে সজল মিয়ার সন্তান। বর্তমানে, কোনাপাড়া তেলিরচালা এলাকায় থাকতেন। নিহত এক ভাই এক বোন সে ছিল বড়। মা সুমাইয়া আক্তার গার্মেন্টস কর্মী ও বাবা তাকওয়া গাড়িচালক।

নিহত গোলাম রাব্বির বাবা শাহ আলম বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার তারটিয়া গ্রামে আমাদের বাড়ি। পরিবার নিয়ে গত আট বছর ধরে গাজীপুরে থাকেন। ফেরি করে আইসক্রিম বিক্রি করি। দুই ছেলে ও মেয়ের মধ্যে রাব্বি ছিল দ্বিতীয়। গত পাঁচ বছর আগে আমার স্ত্রী নাজমা বেগম অসুস্থ হয়ে মারা যান। রাব্বি নাটোরে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। আমার কাছে বেড়াতে এসেছিল। এদিকে নিহত জহিরুল ইসলামের ভাতিজা মো. বাবু হোসেন বলেন, জহিরুলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার ভেড়াখোলা গ্রামে। স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে গাজীপুর কালিয়াকৈরে ভাড়া থাকতেন। সেখানে মাছের ব্যবসা করতেন। নিহত মোতালেব হোসেনের মেয়ে মনিরা খাতুন বলেন, তার বাবার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার ইদুলপুর গ্রামে। কালিয়াকৈরে ভাড়া থাকতো বাবা আর মা। এই ঘটনায় মা রমিছা বেগমও (৩৮) দগ্ধ হয়েছেন। তার তিন শতাংশ পুড়ে গেছে। বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন। 

উল্লেখ্য, ১৩ই মার্চ সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কালিয়াকৈরের তেলিরচালা এলাকায় একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এতে দগ্ধ হন অন্তত ৩৫ জন।

Link copied!

সর্বশেষ :